আর ইউনিয়ন নয়, ফতুল্লার নগরায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা

226
আর ইউনিয়ন নয়, ফতুল্লার নগরায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা

ফতুল্লা থানা এলাকার চারটি ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিপরীতমুখী অবস্থান এবং জাতীয় সংসদে স্থানীয় এমপি এডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিনের জোরালো বক্তব্য বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া গতকাল কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাথে এক বিশেষ বৈঠক ও একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়ে এই যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেন। কুতুবপুরইউনিয়নের ১০ লক্ষাধিক মানুষের নাগরিক সুবিধা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী কুতুবপুরকে সিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন এবং আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই তার এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নসহ ফতুল্লা এলাকাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। জানা যায়, প্রথমদিকে এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা সামনে এলেও কুতুবপুরকে বাদ দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি সরব হন। এরপর থেকেই কুতুবপুরবাসীকে সম্পৃক্ত করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়।

শহীদ উল্লাহর দাবি, ফতুল্লার জনসংখ্যা, শিল্পাঞ্চল ও নাগরিক চাহিদার বাস্তবতায় কুতুবপুরসহ পুরো এলাকাকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সীমাবদ্ধ কাঠামোর মাধ্যমে এত বড় জনবহুল এলাকার কাংখিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন সম্প্রতি মহান জাতীয় সংসদে ফতুল্লা থানা এলাকাকে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানান। সংসদে তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ফতুল্লাকে দ্রুত সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের বড় একটি অংশ এমপির এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, ফতুল্লা এখন আর গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামোর উপযোগী নয়। বিশাল জনসংখ্যা, কলকারখানা, ঘনবসতি, যানজট, ড্রেনেজ সংকট ও নাগরিক চাপ বিবেচনায় এলাকাটিকে আধুনিক নগর প্রশাসনের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে এই আলোচনার মাঝেই ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তিনি ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে পৃথক একটি পৌরসভা গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, ফতুল্লার বিশাল জনসংখ্যা ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক বাস্তবতায় আলাদা পৌরসভা গঠনই হবে অধিক কার্যকর ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত।

ফলে ফতুল্লার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে এখন স্পষ্টভাবে দুই ধরনের মতামত সামনে এসেছে। একদিকে শহীদ উল্লাহ ও স্থানীয় এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন চাইছেন ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আসুক। অন্যদিকে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী চাইছেন পৃথক পৌরসভা গঠন করা হোক।

তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের অভিমত, ফতুল্লাকে আর ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামোর মধ্যে ফেলে রাখা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য, সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভা যে কোনো আধুনিক নগর প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় এনে দ্রুত পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়, ফতুল্লার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়।