
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর বেপারীকে ‘সাধু’ সাজানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তার একটি নিজস্ব অনুসারী বলয়। তবে পাইকপাড়া নামাপাড়া ও আশপাশের এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের ভাষ্য একেবারেই ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর বেপারী মূলত এলাকার অপরাধ জগতের এক ‘বেতাজ বাদশাহ’। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই যার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই, সবচেয়ে বড় কথা তার কোনো বৈধ ব্যবসা বা আয়ের পথ নেই বলে জানাও স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাহাঙ্গীরের এই বেপরোয়া আচরণের মূল শক্তি হলো রাজনৈতিক ছত্রছায়া। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও তার পরিবার ক্লিন ইমেজের হলেও জাহাঙ্গীর মূলত এমপির পুত্র আবুল কাউসার আশা এবং কন্যা সামছুন নাহার বাঁধনের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আশা ও বাঁধন দুজনেই ‘ক্লিন ইমেজ’-এর রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের নাম ব্যবহার করে জাহাঙ্গীর নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখছে। এমপির পরিবারের সদস্যরা যদি জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সচেতন হতেন এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিতেন, তবে তার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এইসব অভিযোগের বিষয়ে এবং তার বৈধ পেশা কি তা জানতে জাহাঙ্গীর বেপারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিককে ‘ফালতু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং মুখের ওপর ফোন কেটে দেন।
পরবর্তীতে পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকির সুরে বলেন, “আপনার সাথে কথা বলার মতো সময় আমার নাই। আপনার পুরো ডিটেইল (বিস্তারিত তথ্য) আমার কাছে আছে, আমি পাইছি।” কথা বলার একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত, ঈদের পরে চায়ের দাওয়াত রইলো। আইসেন, একজন আরেকজনকে চিনবো নে।”
একজন বিচারাধীন মামলার আসামীর কাছে প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত তথ্য থাকার দাবি এবং দম্ভোক্তি প্রমাণ করে যে, প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে সে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক আশ্রয় না থাকলে তার বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ জমা পড়ত। প্রশাসন যদি শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে তদন্ত চালায়, তবেই জাহাঙ্গীরের দীর্ঘদিনের অপকর্মের শ্বেতপত্র উন্মোচিত হবে।
আগামী পর্বে থাকছে, জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী স্কুল কমিটিতে স্থান পেলেন যেভাবে







