ফুটপাতে স্বস্তি নেই নারায়ণগঞ্জবাসীর: ফের হকারদের দখলে চাষাঢ়া-বঙ্গবন্ধু সড়ক

15
নাসিকের পানিতে ডুবছে ফতুল্লা, এমপি ও প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা
নাসিকের পানিতে ডুবছে ফতুল্লা, এমপি ও প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত আবারও গ্রাস করে নিয়েছে অবৈধ হকাররা। কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রশাসনের জোরালো উচ্ছেদ অভিযানে নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও, নিয়মিত তদারকির অভাবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই। চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ডিআইটি, কালীরবাজার, চেম্বার রোড, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ও মীর জুমলা রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ফের দাপটের সঙ্গে বসতে শুরু করেছে হকাররা। ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নগরজুড়ে আবারও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফুটপাতের পুরো অংশ দখল করে বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে নগরীতে বড় ধরনের হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। সে সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, কোনো অবস্থাতেই ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে শহরকে গ্রিন ও ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

তবে বাস্তব চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের দখল হয়ে গেছে নগরীর অধিকাংশ ফুটপাত। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় ও নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির মাধ্যমেই ফুটপাত পুনরায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের সাময়িক অভিযানের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, ফুটপাতে হকার বসার কারণে বিপুল পরিমাণ পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধুমাত্র একদিনের উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে স্থায়ী পরিকল্পনা, নিয়মিত কঠোর নজরদারি এবং প্রকৃত হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বছর একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকেই।