সিটি করপোরেশনের পানিতে ডুবছে ফতুল্লার বিশাল এলাকা: এমপি ও নাসিক প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

28
নাসিকের পানিতে ডুবছে ফতুল্লা, এমপি ও প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা
নাসিকের পানিতে ডুবছে ফতুল্লা, এমপি ও প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ইসদাইর, গাবতলী, লালপুর, টাগারের পাড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন যেন স্থায়ী জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হয়েছে। সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, সড়ক, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বছরের পর বছর ধরে চলমান এই ভয়াবহ দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকার পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশন, উত্তর জামতলা, ওসমানী স্টেডিয়াম, ইসদাইর বাজার ও আশপাশের এলাকার বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে এসে ফতুল্লার নিম্নাঞ্চলগুলোকে ডুবিয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সিটি করপোরেশন এলাকার তুলনায় ইসদাইর, গাবতলী, লালপুর ও টাগারের পাড় এলাকা অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবেই ঢাল বেয়ে এসব এলাকায় এসে জমা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই পানি নামানোর জন্য কার্যকর কোনো আউটলেট, ড্রেনেজ সংযোগ কিংবা স্থায়ী নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় চরম মানবিক দুর্ভোগ।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমজীবী পরিবারগুলো। অনেক বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ঢুকে পড়ছে। রান্নাঘর, শোবার ঘর ও টয়লেট পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন পরিবারগুলো। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতর ইট বা কাঠের উঁচু মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন।

নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অপরদিকে, সড়ক তলিয়ে থাকায় রিকশা, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ইসদাইর বাজার ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী আউটলেট নির্মাণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই প্রশাসনের সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।