
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের জনপ্রতিনিধিত্বের ‘কালো অধ্যায়’ এবার চূড়ান্তভাবে শেষ হতে চলেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর, এবার ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদটিও বাতিলের দ্বারপ্রান্তে।
তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হত্যা মামলার (৩০২ ধারা) চার্জশিট নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তলব করা প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জমা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন, রশিদের বিরুদ্ধে একটি নয়, বরং একাধিক ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে। ফলে আইন অনুযায়ী যেকোনো মুহূর্তে তার মেম্বার পদ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও ডিসির প্রতিবেদন প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (ইউপি-১ শাখা) থেকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. রশিদ আহমেদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত হত্যা ও বেআইনি সমাবেশের মামলায় (মামলা নং- ৩০, ধারা- ৩০২) আদালতের চার্জশিট এবং ডিসির মতামতসহ প্রতিবেদন তলব করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রাপ্তি এবং রশিদের মেম্বার পদ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল হক বলেন, “হ্যাঁ, আমরা মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি পেয়েছি এবং ইতোমধ্যে আমাদের প্রতিবেদনও মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।”
আব্দুর রশিদের মামলার বিষয়ে ডিসি স্পষ্ট করে বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট হয়েছে। এক্সাক্টলি (সঠিক) সংখ্যাটা এই মুহূর্তে মনে না থাকলেও, একাধিক মামলায় যে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে, এটি নিশ্চিত।”
একাধিক মামলায় চার্জশিট হওয়ায় তার মেম্বার পদ বাতিল হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় পুলিশ যদি চার্জশিট দাখিল করে, তখন মন্ত্রণালয় তার বিষয়ে আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।”
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, রশিদের মেম্বার পদ বাতিল এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— “কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গৃহীত হলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে উক্ত চেয়ারম্যান বা সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবে।”
যেহেতু জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন যে রশিদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট হয়েছে এবং ডিসি অফিস মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছে, তাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখন আইন অনুযায়ী তাকে সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ জারি করবে।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি আব্দুর রশিদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে সংরক্ষিত নারী মেম্বার পিংকি আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু রশিদ মেম্বার পদটি ব্যবহার করে নরায় এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন।
বক্তাবলীর সচেতন মহলের দাবি, যার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও ফৌজদারি মামলার চার্জশিট রয়েছে এবং যাকে ৯ জন ইউপি মেম্বার অনাস্থা দিয়েছেন, তার আর একদিনও মেম্বার পদে থাকার নৈতিক ও আইনগত অধিকার নেই। মন্ত্রণালয় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত দাগী আসামি রশিদের মেম্বার পদটি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে প্রত্যাশা বক্তাবলীবাসীর।







