
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেট এলাকায় জোরপূর্বক জমি জবরদখলের মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। এই জমি দখল মিশনের নেপথ্য গডফাদার হিসেবে এবার প্রকাশ্যে এসেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক বিতর্কিত সাধারণ সম্পাদক ও নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের নাম।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শান্তিভঙ্গের তীব্র আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) আদালত সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, মো: জামান ও মিজানসহ ১২ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় কঠোর ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ (শোকজ) জারি করেছেন।
আদালতের নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সাত্তার (৫৯) বাদী হয়ে দায়ের করা পিটিশন মামলায় (নং- ৩০৬/২০২৬) বিবাদীদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে মোট ১২ জনকে। মামলার প্রধান বিবাদীরা হলেন—সাইনবোর্ড ও শান্তিধারা এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান চৌধুরীর তিন ছেলে মো: জামান (৪৮), মো: মিজানুর রহমান (৩৫) ও বাবু (২৮) এবং ১২ নম্বর বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে সাবেক কাউন্সিলর ও থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে। এছাড়া অন্য বিবাদীরা হলেন—শাহাদাত হোসেন, আবু সাহেদ শিপন, সাইফুল ইসলাম, মো: কাদির, বাহার উদ্দিন, মো: রনি, মো: মোক্তার হোসেন ও মো: ইউসুফ আলী।
আদালতের অফিশিয়াল নোটিশের সুনির্দিষ্ট তফসিল ও চৌহদ্দি অনুযায়ী, সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেট সংলগ্ন ৪টি খণ্ডে সর্বমোট ৯২.৬৬ শতাংশ (প্রায় ৩ বিঘা) নালিশি সম্পত্তি কাজী আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। যার উত্তরে খোদ রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে (মহাসড়ক) এবং দক্ষিণে মিতালী মার্কেটের অংশ অবস্থিত। এই জমির ওপর জামে মসজিদ ও টিনের ঘরও রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের অন্য একটি মামলায় (নং- ২০৮/২০২৩) আদালত এই জমির বৈধ দখল কাজী আব্দুস সাত্তারের পক্ষে সাব্যস্ত করে বিবাদী পক্ষকে চিরতরে উচ্ছেদ ও অনুপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন।
কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রভাবকে অপব্যবহার করে গত ২৭ মে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও আশ্রয়ে প্রধান বিবাদী জামান, মিজান ও বাবু তাঁদের সশস্ত্র লাঠিয়াল ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে উক্ত নালিশি জমি থেকে কাজী আব্দুস সাত্তারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বেআইনিভাবে জবরদখলের চেষ্টা চালায়।
অদ্য ২ জুন শুনানিতে বাদীর দাখিলকৃত আরজি ও নথিপত্র বিবেচনা করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী বিন কবির শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আদালত ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনসহ ১২ জন বিবাদীকেই নোটিশ দিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে—“কেন তাঁদের এই নালিশি ভূমিতে প্রবেশে চিরতরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না” তা আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি-কে উক্ত নালিশি ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দল থেকে পদ হারানোর পর দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা সাবেক বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন আবার নতুন করে সাইনবোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার বিশাল জমি দখল সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা ও সচেতন মহলের দাবি, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বা অতীত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা আদালতের রায় অমান্য করে জমি ও মসজিদের জায়গা দখল করতে চায়, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। কোনো ভূমিদস্যুকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পূর্বেই জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেন। আদালত থেকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো কাগজ পাননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কাগজ পাই নাই।







