
দেশের অন্যতম শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা সামনে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ের অভিযান ও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নজরদারি ও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, বন্দর, সোনারগা, আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর আগে একই এলাকায় মাদকবিরোধী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে র্যাব সদস্যরাও হামলার শিকার হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় মাদক কারবারিরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও হামলা চালাতে দ্বিধা করছে না।
কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টিও এখন অভিভাবকদের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা। বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় কিশোরদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে এসেছে, যা সমাজবিজ্ঞানী ও সচেতন মহলকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনাও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ ভোররাতে ঘর থেকে বের হলেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন। মা-বোনেরাও এই নির্মমতা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন। কিন্তু মাদক ও ছিনতাইয়ের কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।” মাসদাইর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, “মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে কোনোভাবেই ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। যারা মাদকের পেছনে অর্থায়ন করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।”
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, জাতীয় অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাদের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং দমন টাস্কফোর্স গঠন, ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় বাড়তি টহল ও সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।







