নাটকীয় মোড়: মুচলেকা দিয়ে মাঝরাতে মুক্ত এমপিপুত্র সজীব!

15
নাটকীয় মোড়: মুচলেকা দিয়ে মাঝরাতে মুক্ত এমপিপুত্র সজীব!
নাটকীয় মোড়: মুচলেকা দিয়ে মাঝরাতে মুক্ত এমপিপুত্র সজীব!

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে অবশেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগে খোদ রাজধানী থেকে আটকের পর দিনভর নাটকীয়তা শেষে রোববার (২১ জুন) রাত দেড়টায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে মুক্তি দেয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সজীব আর কেউ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে।

ডিবি হেফাজতে সজীবের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সজীবকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বক্তব্য যাচাই-বাছাই করার পর একটি মুচলেকা নিয়ে রাত দেড়টায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকার গঠনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ এলাকার একটি বড় শিল্প গ্রুপের গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে সজীবের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু ওই শিল্প গ্রুপই নয়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী গাড়ি আটকে টাকা আদায় এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ সজীবের বিরুদ্ধে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ে প্রশাসনের কাছে।

এরই প্রেক্ষিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গত রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে আনা হলেও, পরবর্তীতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার সন্ধ্যায় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, চাঁদাবাজির এই ভয়ংকর অভিযোগ ওঠার পরপরই সজীবকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল। রোববার বিকেলেই তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংগঠনটি।

এমপিপুত্র সজীবের এই নাটকীয় আটক ও মুচলেকা দিয়ে মাঝরাতে সটকে পড়ার ঘটনা এখন নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যাওয়া এই এমপিপুত্র কি সত্যিই তার অপরাধ সিন্ডিকেট বন্ধ করবেন, নাকি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন?