
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের একের পর এক জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যখন সাধারণ নগরবাসী ও তৃণমূলের মাঝে স্বস্তি ফিরছে, ঠিক তখনই এক বিতর্কিত নেতার কারণে বারবার ম্লান হচ্ছে দলটির সকল অর্জন। চাঁদপুর থেকে এসে নারায়ণগঞ্জে জেঁকে বসা মহানগর বিএনপির এক নেতার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেফাঁস মন্তব্যের কারণে ভালো নেতাদের ভালো কাজগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ নেতা।
তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ নগরবাসীর মতে, ৫ই আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অন্যতম উদাহরণ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা সদর-বন্দরকে একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছেন। মাদকের স্পট উচ্ছেদ থেকে শুরু করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। এমনকি নগরীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ ফুটপাত ও হকার উচ্ছেদেও তাদের জোরালো ও প্রশংসনীয় ভূমিকা ছিল।
একইভাবে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিয়ে নগরবাসীর মন জয় করে চলছেন। কল্যাণী খাল সংস্কার, ঐতিহাসিক জিউস পুকুর উদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের চলমান কাজ এবং মহিলা কলেজের সাথে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিটিয়ে কলেজ সংলগ্ন ২নং রেলগেট থেকে চাষাড়া সড়কটি জনগণের জন্য উন্মুক্তকরণসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজে মনোনিবেশ করে ইতিমধ্যেই তিনি সুনাম অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে, আরেক পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে জেলা পরিষদের দায়িত্ব দেওয়ার পর, তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন খাল খনন, মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাট এবং স্কুল-কলেজের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। সমগ্র জেলার আনাচে-কানাচে জেলা পরিষদের উন্নয়নের ছাপ রেখে যাচ্ছেন তিনি।
পাশাপাশি, স্বচ্ছ রাজনীতির পথিকৃৎ ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকার ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (নউক)-এর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দিয়েছে। যুবসমাজের আইকন হিসেবে পরিচিত এই নেতা ইতিমধ্যেই কোনো প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিতে না জড়িয়ে নগরবাসীর মতামত নিয়ে একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগর গড়ার কাজ শুরু করেছেন।
নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি, এই চার নেতার এত এত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বারবার ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র চাঁদপুর থেকে আগত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এক নেতার বেপরোয়া ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে। স্থানীয় রাজনীতিতে ‘গান্ধিপোকা’ খ্যাত ওই নেতা এতটাই বেপরোয়া যে, তিনি কখনো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, তার পুত্র আবুল কাউসার আশা, কখনো ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামান, আবার কখনো মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ ও বেফাঁস মন্তব্য করে চলেছেন। এমনকি দলীয় প্রধানের বিরোধীতা করেও পোস্ট দিতে দেখা গেছে তাকে।
এখানেই শেষ নয়, গোটা নারায়ণগঞ্জবাসী যখন ফুটপাত ও রাস্তা সচল করতে হকার উচ্ছেদকল্পে একত্রিত, তখনও এই বিতর্কিত নেতা পেছন থেকে হকারদের উসকে দিয়ে নগরবাসীর স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক নারী আইনজীবীকে মারধরের চেষ্টা এবং নারী আইনজীবীদের ‘নর্তকী’ বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি; যার প্রতিবাদে খোদ এমপি-কন্যার উপস্থিতিতে ওই নেতার বিরুদ্ধে বিশাল মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।
সর্বশেষ, একটি গণপরিবহন খাত থেকে মাসে ৯০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক তৃণমূল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন আমাদের ইমেজ পুনরুদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন, তখন চাঁদপুর থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা এক নেতার চাঁদাবাজি ও নোংরামির দায় পুরো দল নিতে পারে না। ওনার এসব অপকর্মের কারণে ভালো নেতাদের ভালো কাজগুলো বারবার আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান ও সাংগঠনিক শাস্তি চাই।”
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের ভালো নেতাদের সুনাম ধরে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এই ধরনের উশৃঙ্খল ও বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে এখনই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।







