বক্তাবলী ইউপিতে জনসেবার পথে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বাধা কেন?

মন্তব্য প্রতিবেদন----

54
বক্তাবলী ইউপিতে জনসেবার পথে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বাধা কেন?
বক্তাবলী ইউপিতে জনসেবার পথে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বাধা কেন?

আনোয়ার হোসেন মোল্লা:

গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ জন্মের পর প্রথম যে সরকারি নথির মুখোমুখি হয়, সেটি হলো জন্ম নিবন্ধন। এরপর শিক্ষা, চাকরি, ব্যাংকিং, পাসপোর্ট, জমিজমা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জীবনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের সনদ ও প্রত্যয়ন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদই গ্রামীণ জনগণের জন্য রাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের সেবাকেন্দ্র।

বক্তাবলী ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। একজন নির্বাচিত মহিলা সদস্য হিসেবে তিনি বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ইউনিয়নবাসীকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, পরিষদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কিছু সদস্যের বিরোধিতার কারণে তার দায়িত্ব পালনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো, এই বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কে? পিংকি আক্তার, নাকি বক্তাবলীর সাধারণ মানুষ? বাস্তবতা হলো, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন জন্ম নিবন্ধন করতে আসা অভিভাবক, নাগরিক সনদের জন্য অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থী, পাসপোর্টের আবেদনকারী যুবক কিংবা সরকারি ভাতা পাওয়ার আশায় থাকা বৃদ্ধ মানুষটি। জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মূল্য দিতে হয় সাধারণ জনগণকে।

গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবে, সমালোচনা থাকবে, এমনকি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি জনসেবার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা আর গণতান্ত্রিক আচরণ থাকে না; বরং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

বক্তাবলী ইউনিয়নের মানুষ এখন উন্নয়ন, সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রত্যাশা করে। তারা জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার লড়াই দেখতে চায় না। তারা চায় জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পেতে।

তাই যারা ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছেন বা জনসেবার কাজে অযথা বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইউনিয়নবাসীর সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সকল জনপ্রতিনিধির প্রতি আহ্বান ব্যক্তিগত বিরোধ ভুলে জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন।

কারণ চেয়ারম্যান, মেম্বার বা পদ-পদবী চিরস্থায়ী নয়; কিন্তু জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ। আর জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো বাধা, কোনো প্রতিহিংসা এবং কোনো সংকীর্ণ রাজনীতির স্থান থাকতে পারে না।