গাবতলীতে মাদকবিরোধী জনরোষ তীব্র: উচ্ছেদ, বিক্ষোভ মিছিল, কঠোর হুঁশিয়ারি

96
ফতুল্লার গাবতলীতে মাদকবিরোধী মিছিল ও জনরোষ
ফতুল্লার গাবতলীতে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও জনরোষ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি বাড়িকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে একটি বৃহৎ মাদকবিরোধী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে নারী, পুরুষ, যুবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মিছিল থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা বারবার গ্রেপ্তার হলেও পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে একই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ এবং পুলিশের সহযোগিতায় গাবতলীর একটি কথিত মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় হেলাল মাস্টারের বাড়ির পাশে পৃথক একটি ঘর নির্মাণ করে সেখানে মাদক বিক্রির কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকাবাসীর চাপ ও পুলিশের উপস্থিতিতে ওই স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, ফতুল্লা থানার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উৎস গাবতলীর জমজম কটেজকে কেন্দ্র করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের দাবি, এই স্থান থেকেই ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে গাবতলীর গ্লোরি স্কুলের সামনে মিজানের বাড়িতে বসবাসকারী শুক্কুর নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও পাইকারি মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উৎস ও শুক্কুর উভয়েই অতীতে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু মাদক ব্যবসায়ী প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার সুযোগে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদকবিরোধী মিছিল থেকে ক্ষুব্ধ জনতা ঘোষণা দিয়েছে যে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। মিছিলকারীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের গণধোলাই দেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর দায় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের বক্তব্য জনমনে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে গাবতলী এলাকায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এলাকাবাসী নিয়মিত সভা, বৈঠক ও মহড়ার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে গাবতলীকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।