ফতুল্লায় ভ্যান সরদারকে আটকে রেখে অর্থ লুট: আলোচনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অনুসারীরা, রাসেলের অস্বীকার

27
ফতুল্লা বিসিক ছিনতাই মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ফতুল্লা বিসিক ছিনতাই মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এক ভ্যান সরদার ও তার সঙ্গীকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে, মারধর ও ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল লুট করার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত শনিবার (১১ জুলাই) দায়েরকৃত এই মামলায় (মামলা নং-২৪) আসামি করা হয়েছে নরসিংপুরের দুলাল মিয়ার ছেলে বাচ্চু (৪৫), ভোলাইল মরাখালপাড়ের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে রুবেল (৪৫) এবং মুসলিমনগরের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মোঃ মঞ্জু মিয়াকে (৪৭)।

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের দাবি, অভিযুক্তরা সবাই ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এমনকি টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার আগে ভুক্তভোগী ফুল মিয়াসহ দুজনকে জোর করে ধরে নিয়ে বিসিকের মার্টিন গলির যে অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানেও ওই নেতার ছবি রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ ছিনতাইয়ের টাকা উদ্ধারের জন্য রাসেলের সাথে যোগাযোগ করলেও পরবর্তীতে সেই তৎপরতা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় পদের প্রভাব ও কতিপয় নেতার আশ্রয়ে বিসিক এলাকায় এই সিন্ডিকেটের লোকজন প্রায়শই নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

তবে অনুসারীদের জড়িয়ে ওঠা এই বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ জানান, “অনেকেই আমার মিছিল-মিটিংয়ে আসে বা রাজনীতি করে। তাই বলে সবার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়িত্ব তো আর আমি নেব না। এমনও তো হয়, ছেলে কী করে তা অনেক সময় বাবাও জানে না। সেখানে রাজনৈতিক কর্মী কে কোথায় কী করছে, তার দায় আমার ওপর চাপানো অযৌক্তিক। অপরাধী যেই হোক না কেন, সে অপরাধী— এটাই তার একমাত্র পরিচয়। এর সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।”

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোঃ ফুল মিয়া (৪৮) গত ১৭ বছর ধরে ফতুল্লা বিসিক এলাকায় ভ্যান সরদারের কাজ করে আসছেন। ব্যক্তিগত ধারের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম থেকে নিজের গরু বিক্রি করা নগদ ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা নিয়ে গত ১১ জুলাই ভোর অনুমান ৪টার দিকে বিসিক ২নং গেটের সামনে বাস থেকে নামেন। এ সময় আসামিরা মাদক তল্লাশির নামে তাদের ঘিরে ধরে এবং কৌশলে বাচ্চুর অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং বাদীর সঙ্গী ফাইদুল ইসলামকে জোরপূর্বক ইয়াবা ট্যাবলেট ধরিয়ে দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের ভয় দেখিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নগদ টাকা, মোবাইল ও এটিএম কার্ড লুট করা হয়।

এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।