বক্তাবলীতে ভিজিএফের চাল বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা

24
বক্তাবলীতে ভিজিএফের চাল বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা
বক্তাবলীতে ভিজিএফের চাল বণ্টনে শতভাগ স্বচ্ছতা

নারায়ণগঞ্জ সদরের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি নির্দেশিকা মেনে হতদরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ভিজিএফের (VGF) চাল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। একটি মহল পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার যে কাল্পনিক অভিযোগ তুলেছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাল বণ্টনের সরকারি হিসাব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে দুস্থদের তালিকা প্রণয়নের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক।

উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য মোট ২৯৯টি ভিজিএফ কার্ড (প্রতি কার্ডে ১০ কেজি করে মোট ২ হাজার ৯৯০ কেজি চাল) বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই সীমিত সংখ্যক কার্ড সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বৈষম্যহীনভাবে এবং প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে সুনির্দিষ্ট বণ্টন নীতি অনুসরণ করা হয়।

কাগজে-কলমে সঠিক হিসাব অনুযায়ী, এলাকার দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের তালিকা নিশ্চিত করতে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় ১০০টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। একই এলাকার চরম সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আরও ৭০টি কার্ড সুষমভাবে বণ্টন করা হয়।

অবশিষ্ট ১২৯টি কার্ডের মধ্যে পরিষদের ১২ জন নির্বাচিত মেম্বারের (সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ) প্রত্যেককে সমতার ভিত্তিতে ৮টি করে মোট ৯৬টি কার্ড দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা নিজ নিজ ওয়ার্ডের সবচেয়ে অসহায় মানুষের মাঝে তা বিতরণ করতে পারেন। বাকি থাকা ৩৩টি কার্ডও এলাকার অন্যান্য অতিদরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে সরাসরি নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভিজিএফের চাল বণ্টনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি দাবি করে এনসিপি’র নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সদস্য সাগর বলেন, “জ্বী, আমরা ইউনিয়ন থেকে ৫০টি ভিজিএফ কার্ড নিয়েছি। প্রকৃত অসহায়দের আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তা দিয়ে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে চাল বণ্টন করেছি।

একই সুরে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান বলেন, “বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করেই সুষম বণ্টন করেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—বিগত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যেসব এলাকার মেম্বাররা বৈষম্যবিরোধী হত্যা ও সহিংসতা মামলায় বর্তমানে পলাতক আছেন, সেসব এলাকার দুস্থরা যাতে এই ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সহযোগিতা পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি। আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খোঁজ নিয়ে ৭০ জন দুস্থকে এটা পেতে সহযোগিতা করেছি।”

অন্যদিকে, পুরো প্রক্রিয়াটিতে শতভাগ নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় ছিল উল্লেখ করে বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমরা গত নির্বাচনে আমাদের জোটের প্রার্থী তথা বর্তমান এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে জয়ী করতে কাজ করেছি। এলাকার মানুষ আমাদের বলে—’তোমাদের প্রার্থীকে জয়ী করলা, বিভিন্ন সহযোগিতা আসলে আমরা যেন তা পাই।’ সেই লক্ষ্যে আমাদের মাননীয় এমপি সাহেব বলেছেন, কোনো ভুয়া কার্ড বা দলীয় প্রভাব নয়—প্রকৃত প্রাপ্য ব্যক্তিরা যাতে সহযোগিতা পায়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত অভাবী মানুষদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।”

এর আগে পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মহিউদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁদের ২৫-৩০টি করে কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৮টি করে কার্ড দিয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ইউনিয়নের জন্যই বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২৯৯টি কার্ড। যেখানে ১২ জন মেম্বারকেই যদি ২৫-৩০টি করে কার্ড দিতে হতো, তবে শুধু মেম্বারদের জন্যই ৩০০ থেকে ৩৬০টি কার্ডের প্রয়োজন হতো—যা মোট বরাদ্দের চেয়েও বেশি!

এলাকাবাসীর মতে, সরকারি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা না বুঝে এবং জামায়াত-এনসিপি ও বিএনপির মাধ্যমে দুস্থদের বড় একটি অংশের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ২/১জন না বুঝেই বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা গুঞ্জন ছড়িয়েছেন।

বক্তাবলী ইউনিয়নের সচেতন মহল জানান, গত ২৭ এপ্রিল প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ পিংকি আক্তার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই সবচেয়ে সুশৃঙ্খল এবং বিতর্কহীন চাল বণ্টন প্রক্রিয়া ছিল। কোনো ধরনের একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়েই এই চাল বিতরণ করা হয়েছে। মেম্বারদের একাংশের তোলা ‘বৈঠক না করার’ অভিযোগটি যে স্রেফ নিজেদের অতিরিক্ত কার্ড না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে এসেছে, তা এখন বক্তাবলীর সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার।