বন্দরে ডালিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

252
বন্দরে ডালিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে আলোচনা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শুভকরদী জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় দিনমজুর ডালিম (৩৬) হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমদিকে ঘটনাটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘটিত বলে জানা গেলেও, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি—এর পেছনে দীর্ঘদিনের মাদক-সংক্রান্ত বিরোধ কাজ করেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাত প্রায় ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় ডালিমের সঙ্গে হাবিব নামে এক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন ডালিম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ আগস্ট ভোরে তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনার পর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের চিত্র দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়।

 

স্থানীয়দের আরও দাবি, নিহত ডালিম মাদক বিক্রির বিরোধিতা করতেন। এ কারণেই অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল বলে তারা মনে করছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

ঘটনার পর বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর সঙ্গে হামলার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ডালিম হত্যাকাণ্ডের বিচারই নয়, কলাগাছিয়া এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।