
দলের নাম কিংবা পদের প্রভাব খাটিয়ে যারা নারায়ণগঞ্জকে আবারো চাঁদাবাজি ও অপরাধের অভয়ারণ্য বানানোর অপচেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে সরকার। যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মের গুরুতর অভিযোগ উঠছে, তাদের কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না বর্তমান বিএনপি সরকার। অপরাধী যত বড় প্রভাবশালী কিংবা যত বড় নেতার সন্তানই হোক না কেন—আইন চলবে আইনের গতিতে। যার সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় উদাহরণ, খোদ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি।
এমপি পুত্রের এই আটকের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মতো অপরাধের বিষয়ে সরকার তথা সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিন্দুমাত্র আপস করতে রাজি নন, যা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, শুধু এই সজীবই নয়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নাম ভাঙিয়ে যারা ফুটপাত, পরিবহন, ঝুট ব্যবসা, ড্রেজার কিংবা আবাসন খাতসহ বিভিন্ন সেক্টর থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছে, তাদের সকলের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সরকারের ওপর মহলে পৌঁছে গেছে। অপরাধীদের এই পুরো সিন্ডিকেটকে বর্তমানে কড়া ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকায় রেখেছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে, এই ব্ল্যাকলিস্টে থাকা কোনো চাঁদাবাজই পার পাবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অপরাধীর বিরুদ্ধেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক তদবির বা সুপারিশ এখানে খাটবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই অনমনীয় অবস্থান এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে নারায়ণগঞ্জে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের মাঝে এখন তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ যে চাঁদাবাজমুক্ত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সরকারের এই কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ী সমাজের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।







