
রফিকুল ইসলাম জীবন:
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকজন উদ্যোক্তার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সাফল্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে জেলার একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে তিনি শুধু নিজের ব্যবসায়িক পরিধিই বিস্তৃত করেননি, বরং ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অসংখ্য শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পরিবার আজ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের শিল্প ও ব্যবসা খাতের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান সময়ে শুধু ব্যবসা পরিচালনা করাই বড় বিষয় নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও কাজ করা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ নিজেকে একজন দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
শুধু ব্যবসায়ী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে অনেকেই তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জনসেবার দায়িত্বের তথা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন একজন ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান যিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। অনেকের মতে, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের মধ্যে সেই সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে শিল্প উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোহাগ ভাই শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানের কথা ভাবেন না, তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং মানুষের কর্মসংস্থান নিয়েও কাজ করেন। এ ধরনের মানুষ নেতৃত্বে এলে এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।”
একজন তরুণ উদ্যোক্তার ভাষ্য, “আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ব্যবসায়ী সোহাগের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে। এ কারণেই মানুষ তাঁকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে।”
তবে রাজনৈতিক বা জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ নিজে কখনো প্রকাশ্যে কোনো আগ্রহ বা বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা যায়নি। তিনি বরাবরই ব্যবসা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েই বেশি মনোযোগী থেকেছেন। এরপরও সাধারণ মানুষের একটি অংশ মনে করছে, ভবিষ্যতে তিনি যদি বৃহত্তর জনসেবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তা নারায়ণগঞ্জের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে যে গ্রহণযোগ্যতা, সাফল্য এবং জনসম্পৃক্ততা তিনি অর্জন করেছেন, তা তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে ব্যবসায়ী পরিচয়ের পাশাপাশি এখন তিনি নারায়ণগঞ্জের জনপরিসরেও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে এতটুকু স্পষ্ট যে, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।







