
ফতুল্লা জুড়ে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সরকারী দল বিএনপির সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি নতুন মাত্রায় সংঘবদ্ধ হচ্ছে কিশোর গ্যাং চক্র, যারা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে এনসিপির নামে। এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মাদকাসক্ত কিশোর-যুবক এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও। আর এসবের পেছনে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে উভয় পক্ষকে ইন্ধন দিচ্ছে এসব কাজে আগে থেকে অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। আর এসব কিছুর পাশাপাশি রয়েছে ফতুল্লা থানা পুলিশের ব্যর্থতা। ফতুল্লা জুড়ে মাদকের যে রমরমা ব্যবসা চলছে তাতে স্থানীয় পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ফতুল্লায় বিএনপির ভেতরেও চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকজন নেতার নাম ভাঙিয়ে একটি অংশ বেপরোয়া সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম টিটু, জাকির খান, জাহিদ হাসান রোজেল, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মশিউর রহমান রনি ও রাসেল মাহমুদের নাম উল্লেখ করছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে রাসেল মাহমুদকে ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ব্যক্তি জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই ঝুট সন্ত্রাসী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিভিন্ন অঘটনের জন্ম দিয়ে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরীর ঝুট সেক্টর তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ঝুট ও ওয়েস্টেজ মালামাল, ইট-বালুর ব্যবসা এবং হাটঘাটের ইজারা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এসব অর্থনৈতিক খাতকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
এদিকে, এনসিপির নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা নতুন গোষ্ঠীগুলোও বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি বক্তাবলী খেয়া ঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির সংশ্লিষ্টদের মহড়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা এলাকায় উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু এই খাত নয় অন্য আরও বিভিন্ন সেক্টর নিয়েও প্রস্তুতি চলছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির সন্ত্রাসী চক্র এবং এনসিপির নামধারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হচ্ছে, যা যেকোনো সময় সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
এছাড়া, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা। অভিযোগ রয়েছে, তারা গোপনে দুই পক্ষকেই উসকানি ও সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ফতুল্লার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই এখনই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।







