
নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা। শিল্পাঞ্চল, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে নানা ধরনের অপরাধ, বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং থানার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে কাজ শুরু করেছেন। তবে থানায় যোগদানের পর খুব বেশি সময় না হওয়ায় এখনও পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে কার্যক্রমকে পুরোপুরি গুছিয়ে তোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
ফতুল্লা থানায় প্রতিদিনই জমা পড়ছে অসংখ্য অভিযোগ। এর মধ্যে যেমন প্রকৃত অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দেওয়া অভিযোগও রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করে। ফলে প্রতিটি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে যে, নতুন ওসির দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে তা যেমন সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী, তেমনি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, ফতুল্লার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করাও জরুরি।
তাদের মতে, নতুন ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে সময় ও সহযোগিতা দেওয়া হলে তিনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তবে এর জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মহলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
ফতুল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুলিশের কার্যক্রম কতটা সফল হয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধমুক্ত, নিরাপদ একটি ফতুল্লা।







