
ফতুল্লার চানমারী এলাকা থেকে শুভ (২১) নামের এক যুবককে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে মারধর করে ‘গুম’ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুভর স্ত্রী মোসা. পিংকি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের তালিকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার নাম আসায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে এবং জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পিংকি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় শাকিল নামের এক ব্যক্তি (মোবাইল নং-০১৯৫৯০০০৪@@) তার স্বামী শুভকে জরুরি কাজের কথা বলে চানমারী বস্তিতে ডেকে নেয়। শুভ তার মোটরসাইকেলযোগে সেখানে পৌঁছালে বিবাদীরা পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে মারধর করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে ফেলে, যা এক প্রকার গুম বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে শুভর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযুক্ত শাকিল ও অপর এক বিবাদীর (মোবাইল নং-০১৯৭৩৫৮৭১@@) নম্বরে ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। পিংকি তার স্বামীর জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিবাদীরা তার স্বামীর বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগে উল্লিখিত অভিযুক্তদের মধ্যে শাকিল, রানা, ওয়াসিম, রাজ্জাক, দিপু, লাল শুভ, জাহিদ ও বিলকিসসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিংকির শ্বশুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগে উল্লিখিত রানা হলেন মিশনপাড়া এলাকার প্রয়াত মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগিনা। শুভর কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, এই ‘গুম’ এর ঘটনায় যার নাম উঠে এসেছে, সেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো ঘটনার সাথে জড়িত নই।” তার দাবি, চানমারী এলাকায় তার পৈতৃক সুতার ফ্যাক্টরির ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানই মাদক ব্যবসায়ীদের শত্রুতা অর্জনের কারণ হয়েছে এবং তারা ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। রানা আরও বলেন, তিনি অভিযুক্তদের চেনেন না এবং পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে তাদের সবার বিরুদ্ধেই একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রানা সরাসরি উত্তর দেননি। তিনি বলেন, “আমরা এলাকাটা সুন্দর করার লক্ষ্যে লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। এতে মাদকসেবী ও বিক্রেতারা হয়তো আমার পেছনে লেগেছে।”
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বা কোনো জবাব দেননি।
শুভ ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগ এবং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। শুভর ভাগ্যে কী ঘটেছে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশি তদন্তের পরই এই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।







