
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন গাবতলী এলাকা এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। জনবহুল এই জনপদকে বিষাক্ত করে তুলছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় ‘ইসলামের বাড়ি’র নাম। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে একের পর এক মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার হলেও জনমনে প্রশ্ন—এই চক্রের মূল উপড়ে ফেলা হবে কবে?
জানা গেছে, গত ২ মে (শনিবার) বিকেলে ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৪ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো— শিবু মার্কেট দর্গাবাড়ী এলাকার মোঃ শাহ আলমের ছেলে মোঃ ইমরান হোসেন (৩৪) এবং গাবতলী শাহী মসজিদ এলাকার মোঃ শাকিল (৩২)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতারকৃত শাকিল কেবল একজন বিক্রেতা নন, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে গাবতলীর চিহ্নিত মাদক কারবারি ইসলামের আশ্রয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, শাকিল দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থেকে তার সরাসরি শেল্টারে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামের বাড়িটি এখন স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের প্রধান আস্তানা। শুধু শাকিলই নয়, অসংখ্য ছিঁচকে ও বড় মাদক ব্যবসায়ীর নিরাপদ আশ্রয়দাতা এই ইসলাম। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, ইসলামের পরিবারের সদস্যরাও সরাসরি এই মরণনেশার কারবারের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে গাবতলীর সচেতন মহল এই সিন্ডিকেটের ভয়ে তটস্থ থাকলেও পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতাকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, কেবল ভাড়াটে বিক্রেতাদের ধরলে গাবতলী মাদকুমুক্ত হবে না। এই মরণনেশার কারবার চিরতরে বন্ধ করতে হলে ‘গডফাদার’ এবং তাদের শেল্টারদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বলছে, ইসলামের বাড়িতে মাদক সেবন ও বিক্রির যে মহোৎসব চলে, তা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গাবতলীর তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। মাদক নির্মূলে নিয়মিত এই কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি এখন পুরো গাবতলীজুড়ে।







