
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নকে আংশিক নয়, সম্পূর্ণভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) আওতাভুক্ত করার দীর্ঘদিনের গণদাবি এবার পূরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মনিরুল আলম সেন্টু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাথে এক বিশেষ বৈঠক ও একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়ে এই যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেন। ইউনিয়নের ১০ লক্ষাধিক মানুষের নাগরিক সুবিধা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী কুতুবপুরকে সিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন এবং আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে কুতুবপুরবাসী এই ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সীমানা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে কুতুবপুরকে আংশিক অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পুরো ইউনিয়ন যুক্ত করার দাবি জোরালো হয়। এই সংকট নিরসনে ও জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টু সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। প্রতিমন্ত্রীর সাথে সফল বৈঠকের পর এই আন্দোলনের চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোয় পুরো কুতুবপুর জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
কুতুবপুরকে নাসিকে অন্তর্ভুক্তিকরণ বাস্তবায়ন কমিটি এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এই অগ্রগতিকে একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা নেতৃবৃন্দ মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে কুতুবপুরের সকল আবালবৃদ্ধবনিতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং আন্দোলনকারী সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলা প্রশাসক প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং খুব শীঘ্রই কুতুবপুরবাসী একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরীর পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সুবিধা ভোগ করে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে গতকাল নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবীরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ফতুল্লার তিনটি ইউনিয়ন এবং কুতুবপুরের অর্ধেক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার স্বিদ্ধান্ত আরো আগেই হয়েছে। পরে কুতুপপুবোসী দাবি তোলেন পূরো কুতুবপুরকে নাসিকের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য। আমরা এই দাবি আমলে নিয়ে সিটি করপোরেশনে প্রেরন করি। এখন সিটি করপোরেশন চারটি ইউনিয়নকে প্রস্তাব পাঠালে আমরা এটা মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে দেবো।
প্রসঙ্গত ফতুল্লা থানার কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর এবং কাশীপুর ইউনিয়ন এলাকা স্বাধীনতার পর থেকেই শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসাবে পরিচিত। এই চারটি ইউনিয়নে ছোটবড় প্রায় দশ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। আর এসব শিল্পকারখানায় শ্রমিকের সংখ্যাও কম পক্ষে দশ লাখ। অথচ সাবেক এমপিরা রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এই সকল ইউনিয়ন এলাকাকে পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত হতে দেয়নি। ফলে গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলার ভেতরে উন্নয়নে একেবারে পিছিয়ে পরেছে ফতুল্লা থানার এসব ইউনিয়ন এলাকা। তাই এসব এলাকার সচেতন মহল মনে করেন এখনই এসব ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের আওতায় না নিলে এসব ইউনিয়নে মানুষ বাস কতে পারবে না। এখনই অনেক এলাকায় মানুষ বাস করছে নিধারুন কষ্টে।







