আইভী মুক্তি পেলেও ভোটের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীন?

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন---

9
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সাবেক মেয়র নারায়ণগঞ্জ
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সাবেক মেয়র নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সম্ভাব্য মুক্তিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে নগরজুড়ে। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর ধাপে ধাপে তার জামিন হওয়া এবং উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে তাকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর নির্দেশনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— মুক্তি পেলে তিনি কি আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবেন?

আইভীর আইনজীবীদের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তার মুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে নতুন করে মামলায় জড়ানোর সম্ভাবনাও আপাতত কমে এসেছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় থাকা আইভীকে ঘিরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছেন তার সমর্থকরা।

তবে তার মুক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এই নেত্রী এমন এক সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন যখন দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মাঠে নামতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। কারণ, আইভী কেবল আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ নেত্রী নন; তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েই একাধিকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে টানা কয়েকবার সিটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার এমন কোনো বার্তা দিতে চাইবে না যাতে নিষিদ্ধ বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা দলের প্রভাবশালী নেতারা নতুন করে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পান। কারণ, আইভী যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের আরও অনেক সাবেক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। এতে বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে আইভীর একটি ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থান রয়েছে বলেও মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। আওয়ামী লীগের অনেক বিতর্কিত ও পলাতক নেতার তুলনায় তিনি তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। নগর উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় নানা সামাজিক ইস্যুতে সরব ভূমিকার কারণে দলীয় সীমার বাইরে গিয়েও তার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহলের অনেকে।

এ কারণেই তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির মুক্তি হিসেবে দেখছেন না অনেকে; বরং এটি নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরবাসীর একটি অংশ মনে করছে, আইভী নির্বাচনে অংশ নিলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন আবারও দেশের অন্যতম আলোচিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরিণত হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত আইভী নিজে নির্বাচন করা বা না করা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানাননি। তার ঘনিষ্ঠ মহলের কেউ কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সবকিছু মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, ডা. আইভীর সম্ভাব্য মুক্তিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হলেও তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা। তিনি কি আবারও ভোটের মাঠে ফিরবেন, নাকি বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিকভাবে নীরব থাকবেন— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহল।