
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ-এর বিরুদ্ধে। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শহরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নিজের বলয় আরও শক্তিশালী করতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণ নেতাদের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে জাহির করা আজাদ ইতোমধ্যে জেলার কয়েকজন তরুণ নেতার ওপর শক্ত প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, মহানগর যুদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মহানগর যুবদল নেতা জোসেফ ও মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টিসহ আরও কয়েকজন নেতাকে তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপি আজাদের ছোট ভাইকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামানোর পেছনেও এই বলয়ের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতায় তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে যে, বর্তমান নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। এ অবস্থায় আজাদপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপির ভেতরেই নীরব অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম থাকলেও শহরের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে তাকে অনেক ক্ষেত্রে পাশ কাটিয়ে আলাদা প্রভাব বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এতে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরে বিভক্তির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
তবে আজাদ ঘনিষ্ঠ নেতাদের দাবি, এটি কোনো গ্রুপিং নয়; বরং তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। তারা বলছেন, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভেতরে এই নীরব ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থী নির্ধারণ ও শহরের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে দলটির ভেতরের সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







