
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক এক নেতার ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ও সাবেক অনেক প্রভাবশালী নেতারই এক সময় ন্যূনতম এসএসসি পাসের সনদ ছিল না এবং তারা ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে দলীয় পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ সমাচার-এর হাতে আসা ওই অডিও রেকর্ডে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিপ্লবকে বলতে শোনা যায়, জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেতে এক সময় এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “মোশারফ ভাই, আমি, রিয়াদ, আক্তার ও মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া কারোই তখন সার্টিফিকেট ছিল না। রোজেল, সাদেক, শিপন, শহীদসহ অনেকেরই তখন সার্টিফিকেট ছিল না।”
তিনি আরও দাবি করেন, পদ পাওয়ার জন্য তখন এসব নেতারা গণহারে ঢাকার মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছিলেন। বিপ্লবের ভাষায়, “তখন নকল সার্টিফিকেটের জন্য মিরপুর বাংলা কলেজে লাইন লেগেছিল। এমনকি কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে, সবাই একই কলেজের হয় কীভাবে?”
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক বলেন, “আমি ১৯৮৮ সালেই সোনারগাঁ কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছি। আমার সকল একাডেমিক কাগজপত্র সঠিক আছে। এসব কথা স্রেফ অপপ্রচার।”
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শিপন দাবি করেন, তিনি তোলারাম কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।
জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ২০-২২ বছর আগের কথা তার সঠিক মনে নেই।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল বলেন, “বক্তাই যখন অডিওটি অস্বীকার করে এটিকে এআই জেনারেটেড বলছে, তখন এটি নিয়ে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।” ২০০১ সালের কমিটির বিষয়ে তিনি দাবি করেন যে, তখন যাচাই-বাছাই করেই যোগ্যদের পদ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলবো না, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বলবো।”
সাইফুল ইসলাম বিপ্লব অবশ্য এই অডিওকে ‘এআই জেনারেটেড’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে নিজের দায় এড়াতে চেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে বহিষ্কৃত হওয়া এই নেতার এমন মন্তব্য দলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে এই অডিও ফাঁসের ঘটনায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, “দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এমন বিতর্ক সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত এর সত্যতা যাচাই করে বিভ্রান্তি দূর করা উচিত।” তবে বিপ্লব বহিষ্কৃত হওয়ায় অনেক কর্মী একে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন। তাদের দাবি, ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।







