ফতুল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার; ঘরে ঘরে ইয়াবা

নিস্ক্রিয় থানা পুলিশ------

122
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা, আর সড়ক-গলিতে প্রকাশ্যেই চলছে এর বিক্রি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই এটিকে সামাজিক বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু তরুণরাই নয় শত শত নারী-পুরুষ এই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে মাদক ব্যবসা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করলেও সম্প্রতি তা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এখন এটি যেন ওপেন সিক্রেট সবার চোখের সামনে ঘটছে, কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ নেই।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, আলীরটেক ও বক্তাবলী থেকে শুরু করে গোগনগর, কাশীপুর, এনায়েতনগর ও কুতুবপুর—সবখানেই একই চিত্র। গলি-উপগলি, বাজার কিংবা আবাসিক এলাকায়ও ইয়াবা কেনাবেচা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে উঠে এসেছে নারীদের সম্পৃক্ততা। স্থানীয়দের দাবি, অনেক গৃহবধূও ইয়াবা সেবন ও কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন, যা পরিবার ও সামাজিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও এর প্রভাব দ্রুত বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। ফতুল্লার এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা এখন সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি। স্কুল-কলেজে পাঠালেও ভয় লাগে কোনো খারাপ সঙ্গের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে কিনা। এলাকায় এত সহজে ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে যে, এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর।

কাশীপুরর আরেকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে লুকিয়ে-চুরিয়ে মাদক বিক্রি হতো, এখন প্রকাশ্যেই হচ্ছে। আমরা কিছু বললেও কোনো লাভ হয় না। প্রশাসনের নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষ কী করবে?

এনায়েতনগর এলাকার এক গৃহিনী বলেন, আমার ছেলে কলেজে পড়ে। প্রতিদিন তাকে নিয়ে ভয় লাগে। এলাকায় কিছু খারাপ ছেলের সঙ্গে মিশে গেলে কী হবে এই দুশ্চিন্তা আমাদের মতো অনেক মায়েরই।

তবে এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন। এলাকাবাসীর অধিকাংশের দাবি, ফতুল্লা থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো বড় ধরনের অভিযান বা ধারাবাহিক গ্রেফতারের খবর নেই। বরং কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকচক্রের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ফতুল্লা দ্রুতই একটি গভীর সামাজিক সংকটে পড়বে। তারা অবিলম্বে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান, মাদক বিক্রির হটস্পট চিহ্নিতকরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং একটি পুরো প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তবে, পুলিশ বলছে, মাদক নির্মূলে তাদের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।