রনিকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

এক এমপির সাথে দূরুত্বই তার জন্য কাল হচ্ছে?

12
রনিকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: নেপথ্যে প্রভাবশালী এমপি?
রনিকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: নেপথ্যে প্রভাবশালী এমপি?

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি-কে ঘিরে আবারও গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্র এমন অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক সূত্রের দাবি, এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন একজন প্রভাবশালী নির্বাচিত সংসদ সদস্য, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই রনির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চেষ্টা করে আসছেন।

সূত্রগুলো জানায়, সংশ্লিষ্ট ওই এমপিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক নেতা ‘গুরু’ হিসেবে মানলেও রনি বরাবরই দলীয় চেইন অব কমান্ডের বাইরে ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে নি। এই অবস্থানের কারণেই তার সঙ্গে ওই এমপির দূরত্ব তৈরি হয় এবং সেখান থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, রনি সবসময় সংগঠনভিত্তিক রাজনীতি করে। কোনো ব্যক্তির অনুসারী হয়ে চলেন না। এটাই তার বিরুদ্ধে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে থামিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র চলছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো আরও দাবি করে, বিগত সরকারের সময় রনি নারায়ণগঞ্জে অন্যতম সক্রিয় বিরোধী কণ্ঠ ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং পরে যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান-এর বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নেন এবং রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

বিশেষ করে জিয়া পরিবারকে নিয়ে শামীম ওসমানের বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি চরম রোষানলে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তাকে তুলে নিয়ে গুম করা হয় এবং পরে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তৎকালীন পুলিশ সুপার এর বিরুদ্ধে এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে।

তবে গুমের বিষয়টি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নামে ক্রসফায়ারের পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সে সময় এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান-এর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রনির মুক্তির দাবিতে জোরালো চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

জেলা যুবদলের একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে রনির বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল। জেলার প্রায় সব রাজনৈতিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়। তবুও তিনি মাঠ ছাড়েননি। এখনো সেই ধারাবাহিকতায় তাকে দমাতে নতুন করে মামলা ও হয়রানি শুরু হয়েছে।

তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রনির বিরুদ্ধে একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার কর্মীদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।

জেলা যুবদলের আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৫ আগস্টের পর সবাই ভেবেছিল পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রনিকে রাজনৈতিকভাবে ডুবিয়ে দিতে নতুন করে পরিকল্পনা হচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তি রনির বিরুদ্ধে নয়, এটি একটি সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এমপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখনো তীব্র আকারেই বিরাজ করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।