
নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পু স্ট্যান্ড শহরের কেন্দ্র থেকে বাইরে সরানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। শহরবাসী, পরিবহন ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, অপ্রতুল সড়ক অবকাঠামো, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল এবং শহরের ভেতরে কেন্দ্রীয়ভাবে টার্মিনাল থাকায় প্রতিদিন ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কগুলোতে বাস, টেম্পু ও অটোরিকশার অবাধ প্রবেশ এবং যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চাষাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক ও প্রধান সংযোগ সড়কগুলোতে যানজট নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রীয় সংযোগস্থলগুলোতে দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত পরিবহনই মূল সমস্যার কারণ হিসেবে কাজ করছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের ভেতরে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল থাকায় বিপুল সংখ্যক যানবাহন সরাসরি শহরের কেন্দ্র দিয়ে চলাচল করে, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন শহরে দেখা গেছে, কেন্দ্র থেকে বাইরে টার্মিনাল সরিয়ে নিলে মূল সড়কে যানবাহনের চাপ কমে এবং শহরের গতিশীলতা বাড়ে।
এ বিষয়ে শহরবাসীর মত, নারায়ণগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক বাস টার্মিনাল ও টেম্পু স্ট্যান্ড শহরের বাইরের দিকে স্থাপন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কের ওপর চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিং, রাস্তা দখল এবং অযথা স্টপেজ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।
সম্প্রতি প্রশাসনও শহরের যানজট ও হকার সমস্যাকে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
শহরবাসীর দাবি, শুধু স্ট্যান্ড স্থানান্তর নয়, এর সঙ্গে বাইপাস সড়ক উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং শৃঙ্খলিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তাদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া নারায়ণগঞ্জের যানজট সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা কঠিন হবে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। ##







