
উচ্ছেদের মাত্র ৭ দিনের মাথায় আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহরকে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে পুনর্বাসনের অজুহাতে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া ও নগরভবনের সামনে হকারদের আকস্মিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। তবে এই বিক্ষোভের নেপথ্যে সাধারণ হকারদের অভাব-অনটনের চেয়ে ‘রাজনৈতিক উস্কানি’ ও ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের’ মদদ দেখছেন সাধারণ নগরবাসী।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পাঁচ শতাধিক হকার চাষাঢ়া শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরবর্তীতে তারা মিছিল নিয়ে নগরভবনের সামনে অবস্থান নিলে বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা। অনেককে বলতে শোনা যায়, “ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় শহরটা একটু নিঃশ্বাস নিতে পারছিল, কিন্তু এই অরাজকতা আবার কেন?”
হকারদের এই আন্দোলনের সামনের সারিতে দেখা গেছে কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন এবং গণসংহতি আন্দোলনের জেলা নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাসকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হকারদের ভাগ্য উন্নয়নের চেয়ে শহরকে অস্থির করাই যেন তাদের মূল লক্ষ্য।
অভিজ্ঞ মহল স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারির সেই ভয়াবহ সংঘাতের কথা। তৎকালীন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী যখন হকার উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তখনও সিপিবির এই নেতারাই হকারদের উস্কানি দিয়ে লেলিয়ে দিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে মেয়রের ওপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ বছর পর আবারও সেই একই কুশীলবরা মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হকাররা ফুটপাতে বসা মানেই প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজ চক্রের অবৈধ আয়ের ভাগ বাম ঘরানার তথাকথিত এই নেতাদের পকেটেও যায় বলে গুঞ্জন রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়ার কারণে তাদের সেই ‘আয়ের উৎস’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মরিয়া হয়ে হকারদের উস্কানি দিচ্ছেন।
চাষাঢ়ার এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরা মূলত হকারদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। পুনর্বাসন একটা অজুহাত মাত্র। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো শহরকে অচল করে চাঁদাবাজির পথ আবার উন্মুক্ত করা। এদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা উচিত।”
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রকৃত ভোটার ও অসহায় হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। কিন্তু উস্কানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছুপা হবে না।







