উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে নগরবাসী

32

নারায়ণগঞ্জ শহরকে হকারমুক্ত করার সাহসী উদ্যোগ যখন সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে, ঠিক তখনই ‘পুনর্বাসনের’ সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একদল বাম নেতার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ নগরবাসী। সোমবার (২০ এপ্রিল) নগরভবনের সামনে হকারদের বিক্ষোভের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

নগরবাসীর বড় একটি অংশের অভিযোগ, যারা আজ হকারদের অধিকারের কথা বলে রাজপথ দখল করছেন, তারা মূলত শহরের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলাবিরোধী। সচেতন নাগরিকদের মতে, ২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়রের ওপর হামলার সেই নৃশংস স্মৃতি আজও নারায়ণগঞ্জবাসী ভোলেনি। সেবারও হাফিজুল ইসলামের মতো বাম নেতারা হকারদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে শহরকে অস্থিতিশীল করেছিলেন। আজ আবারও একই কায়দায় ইকবাল হোসেন ও অঞ্জন দাসদের মাঠে নামা দেখে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— “তারা কি সাধারণ মানুষের ভালো চায়, নাকি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোনো অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়?”

চাষাঢ়ার মোড়ে যানজটে আটকে থাকা ক্ষুব্ধ এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কর দিয়ে রাস্তায় চলি, ফুটপাত দিয়ে হাঁটি। হকারদের কেন ফুটপাতে বসতে দিতে হবে? আর এই নেতারা যারা তাদের উস্কানি দিচ্ছে, তারা কি সাধারণ মানুষের এই সীমাহীন ভোগান্তি দেখে না? তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই?”

বিশ্লেষকদের মতে, হকার উচ্ছেদ মানেই প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ ‘চাঁদাবাজি’র টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই অবৈধ অর্থের ভাগ যেসব নেতার পকেটে যেত, তারাই এখন হকারদের বিভ্রান্ত করে রাস্তায় নামাচ্ছে। নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই উস্কানিদাতা ও চাঁদাবাজদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট যানজটে অতিষ্ঠ মানুষ বলছেন, জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনকে কোনো চাপে মাথা নত করা চলবে না। বি বি রোডসহ প্রধান সড়কগুলোকে স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে হবে।

শহরের সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, “শহরটা আমাদের সবার। গুটিকয়েক উস্কানিদাতার কাছে পুরো নারায়ণগঞ্জকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। বামপন্থার নামে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করার সময় এসেছে।”