
নারায়ণগঞ্জ শহরকে অশান্ত করার নেপথ্যে থাকা তথাকথিত নেতাদের নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সোমবার নগরভবনের সামনে হকারদের দিয়ে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, তার দুই মূল হোতা অঞ্জন দাস এবং ইকবাল হোসেন কেউই নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দা নন। এমনকি ভোটের মাঠেও তাদের কোনো নূন্যতম জনভিত্তি নেই। শহরবাসীর প্রশ্ন—নিজেদের এলাকায় প্রত্যাখ্যাত এই ‘বহিরাগত’ নেতারা কোন অধিকারে নারায়ণগঞ্জ শহরকে জিম্মি করার দুঃসাহস দেখান?
হকারদের উস্কানি দিয়ে আলোচনায় আসা অঞ্জন দাসের আসল পরিচয় তিনি সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জ শহরের সাথে তার নাড়ির কোনো সম্পর্ক নেই। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ-৩) আসন থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৬৩৮ ভোট পেয়েছিলেন। ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি হয়েছিলেন ৮ম। যে নেতাকে তার নিজ এলাকার মানুষই চেনে না, তিনি এখন নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারদের ভাগ্যবিধাতা সেজে শহর অচল করার মিশন নিয়েছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে সিপিবির নেতা ইকবাল হোসেনের ক্ষেত্রেও। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে হয়েছিলেন ৯ম। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ৪৭৯। অর্থাৎ, পুরো নির্বাচনী এলাকায় তার পক্ষে ৫০০ জন মানুষও ছিল না। ভোটের বাজারে জামানত হারানো এই জনবিচ্ছিন্ন নেতারাই এখন বহিরাগত হকারদের উস্কে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারা করছেন।
সচেতন নগরবাসীর দাবি, যারা নারায়ণগঞ্জের ভোটার নন এবং এই শহরের আলো-বাতাসে বড় হননি, তারা মূলত বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছেন। হকারদের একটি বড় অংশই শহরের বাইরের বাসিন্দা। আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অঞ্জন ও ইকবালের মতো বহিরাগত নেতারা। তাদের এই অশুভ আঁতাতের কারণেই আজ ফুটপাত দখলমুক্ত করার পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
চাষাঢ়া ও বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, “যাদের পেছনে ৫০০ মানুষও নেই, তারা এসে আমাদের শহর নিয়ন্ত্রণ করবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত এই বহিরাগত উস্কানিদাতাদের নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।”
ভোটের মাঠে ব্যর্থ এই নেতারা এখন হকারদের কাছ থেকে তোলা মাসোহারা আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যে চেষ্টা করছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।







