মাসদাইরে ‘চশমা সাব্বির’ বাহিনীর তাণ্ডব: চালককে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম

450
মাসদাইরে আর এস কম্পোজিটের চালককে কুপিয়ে জখম
মাসদাইরে আর এস কম্পোজিটের চালককে কুপিয়ে জখম

ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় আর এস নীট কম্পোজিট গার্মেন্টসের এক গাড়িচালককে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও মাদক সম্রাট ‘চশমা সাব্বির’ বাহিনী। ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত ১০-১২ জনের এই সন্ত্রাসী দল চালককে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে তাঁর মুখে ও শরীরে উপর্যুপরি কোপায়।

শনিবার (২৩ মে) রাতে মাসদাইর এলাকায় এই রোমহর্ষক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত চালকের নাম জনি। 

যন্ত্রণায় কাঁপতে কাঁপতে চালক জনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমি ঢাকা থেকে আমাদের কোম্পানির এক স্যারকে গাড়ি দিয়ে নিয়ে মাসদাইরে ওনার বাড়িতে নামিয়ে দিই। স্যার গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতর ঢোকার পরপরই হঠাৎ ১০-১২ জন অল্প বয়সী যুবক (কিশোর গ্যাং) হাতে চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, বড় চাকু ও পিস্তল নিয়ে আমার গাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা অত্যন্ত উগ্রভাবে চিৎকার করে আমাকে বলে—‘এটা হানিফ সাহেবের গাড়ি না?’ তখন আমি বলি—না ভাই, এটা আর এস নীট কম্পোজিটের গাড়ি।”

জনি আরও বলেন, “তারা আমার কথা বিশ্বাস না করে বলে, ‘তুই মিথ্যা কথা বলছিস।’ এরপর তারা গাড়ির ভেতরের সিট, ব্যাকডালাসহ সবকিছু তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে। কিছু না পেয়ে তারা আমাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে। তারা এতটাই ভয়াবহ ও হিংস্র ছিল যে, আমি যে স্যারকে নামিয়ে দিয়েছিলাম—তারা পর্যন্ত ভয়ে তাদের বাড়ির মেইন গেট ভেতর থেকে লক করে দেন।”

ভয়ার্ত কণ্ঠে জনি বলেন, “একপর্যায়ে তারা আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমি বলি, ভাই আমি ড্রাইভার মানুষ, এত টাকা কোথায় পাবো? জীবন বাঁচাতে আমি পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে দিই। কিন্তু তারা আমার পকেটে থাকা বাকি সব টাকা ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং আরও টাকার জন্য চড়াও হয়। তখন আমি বুদ্ধি করে বলি, ঠিক আছে, আমি ওপরে স্যারের কাছ থেকে টাকা এনে দিচ্ছি। এরপর আমি স্যারদের ফোন দিলে তারা নিচে এসে গেটটি খোলে। আমি যখন গেটের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি, ঠিক তখনই ওই সন্ত্রাসীরা আমার মুখ লক্ষ্য করে সজোরে কোপ দেয়। চাপাতির কোপটি আমার চোখ ও নাকের নিচে প্রায় ২ ইঞ্চি পর্যন্ত দেবে গিয়ে কেটে যায়। আমার শরীরেও আরেকটি কোপ দেয়। শরীর থেকে পা পর্যন্ত গড়িয়ে মেইন গেটের সামনে প্রচুর রক্তপাত হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মাসদাইর এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও স্বপনের ছেলে ‘চশমা সাব্বির’ এবং তার বাহিনী। এই বাহিনী মাসদাইরের হাজীর মাঠ, হুমায়ুন রোড ও গুদারাঘাটসহ আশেপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে বড় বড় মাদকের স্পট পরিচালনা করে এবং চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম চালায়।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চশমা সাব্বির এর আগেও অস্ত্র ও মাদকসহ বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। জামিনে বের হয়ে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমনকি অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের ওপর হামলার যে দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটেছিল, তার সাথেও এই সাব্বির ও তার বাহিনীর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিছুটা ভিন্ন সুর শুনিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা ঘটনাটি শুনতে পেয়েছি। তবে এটি ছিনতাই নাকি দুই পক্ষের মধ্যকার কোনো সংঘর্ষ—তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশের একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, প্রকাশ্য রাজপথে অস্ত্র ঠেকিয়ে এবং গাড়ি তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে একজন নিরীহ চালককে কুপিয়ে বিকৃত করার এই ঘটনায় মাসদাইরের সাধারণ নাগরিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত চশমা সাব্বির বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও আর এস কম্পোজিট কর্তৃপক্ষ।