
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীর বাড়িতে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতি, নারকীয় তাণ্ডব, রক্তক্ষয়ী হামলা ও এক নারীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় অবশেষে বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। আজ ১৬ জুন (মঙ্গলবার) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী মাসুদা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদা বেগম জানান, রূপগঞ্জের রূপসী এলাকার বাসিন্দা এবং বিদেশফেরত মিলন ভূঁইয়ার (৫৫) কাছ থেকে তিনি পৈতৃক ২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। কিন্তু ক্রয়ের সাত দিন পরই মিলন জমিটি ফেরত চান এবং জমির মূল্য ও রেজিস্ট্রি খরচ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মানবতার খাতিরে মাসুদা বেগম রাজি হলেও এক বছর পার হয়ে গেলেও মিলন কোনো টাকা ফেরত দেননি। পরবর্তীতে ওই জায়গার ওপর ভবন নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস শুরু করলে মিলন আবারও জায়গা ফেরত চেয়ে বর্বর নির্যাতন ও হয়রানি শুরু করেন। এই নিয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রূপগঞ্জ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং ৩৬৪/২০২৬ চলমান রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদালত অবমাননা করে গত ০৬/০৬/২০২৬ইং তারিখ বিকেল ৩টার দিকে মিলন ভূঁইয়া ওরফে চাকু মিলন, তার ভাই শ্যামল ভূঁইয়া, সেতু, লাকি আক্তার, রকিব, রুবেল, বাদশাহ, আলামিন ওরফে চোর আলামিন, আব্বাস আলী, বিল্লাল, শাহিন, জাকির, জুবায়ের, মাসুদ, শিমু ও বিপ্লবসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে মাসুদা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা গেট ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মাসুদা বেগমের স্বামীকে কুঁপিয়ে বাম হাত ভেঙে ফেলে এবং গুরুতর জখম করে।
মাসুদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা আলমারি ও ড্রেসিং টেবিল ভেঙে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া সন্ত্রাসীরা মাসুদা বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং কাপড় চোপড় ছিঁড়ে ফেলে। একপর্যায়ে তারা মাসুদা বেগমের ভাড়াটিয়াকেও পিটিয়ে আহত করে। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতর গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ খুলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। পরে এসআই রসনের নেতৃত্বে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিছ চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী মাসুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে থানায় অভিযোগ দিতে বললেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। আমরা নিরুপায় হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রূপগঞ্জ আদালতে সি.আর মামলা (মামলা নং- ৮৫৮/২০২৬) দায়ের করেছি।” বর্তমানে অভিযুক্তদের দেওয়া ক্রমাগত হুমকিতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “তাদের দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান আছে। রূপগঞ্জ থানায়ও এই ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য ডাকাতি ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের আইজিপি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের (এসপি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।







