স্বার্থে আঘাত লাগলেই ট্যাগ লাগায় মানসিক বিকারগ্রস্ত টিপু

ওসমানদের দালালি ও মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগ

23

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও গণমাধ্যমে দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের জবাব দিলেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ। মৌমিতা পরিবহনে মাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠার পর নিজের পিঠ বাঁচাতে এবার ‘ট্যাগ পলিটিক্স’ শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এমনটি দাবি করেছেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ। টিপুর এই অভিযোগকে স্রেফ ‘অপপ্রচার’ ও ‘বাস্তবতা ঢাকবার অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে টিপুকে “মানসিক বিকারগ্রস্ত” বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

একই সাথে টিপুর অতীত ‘বিএনএফ’ রাজনীতি, ৫ই আগস্ট পরবর্তী ‘মামলা-বাণিজ্য’ এবং ওসমান পরিবারের সঙ্গে সখ্যতার কড়া জবাব দিয়েছেন এই যুবনেতা।

সম্প্রতি চাঁদাবাজির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাকফুটে গিয়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপু দাবি করেন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ মূলত আজমেরী ওসমানের দোসর এবং ওসমান পরিবারের সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ওসমান পরিবারের ইশারায় শাহেদ ও পরিবহন পরিচালক কালা মিলে তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করছে।

টিপুর এমন দাবির প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন যুবদল নেতা শাহেদ আহমেদ। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “টিপু মূলত একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত লোক। যেখানেই তার স্বার্থে আঘাত লাগে বা বাধা আসে, সেখানেই সে একটা করে অবাস্তব ট্যাগ লাগিয়ে দেয়। সে এখন আমার মতো ত্যাগী এবং একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত কালাকে বিভিন্ন কাল্পনিক ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

৫ই আগস্ট পরবর্তী সিন্ডিকেটের কথা উল্লেখ করে শাহেদ বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী খুব ভালো করেই জানে ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে এই শহরে কারা ‘মামলা-বাণিজ্য’ করেছে। আওয়ামী লীগ, আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানের লোকজনরা কার ছত্রছায়ায় রাতারাতি বিএনপির লোক সেজে গেছে, তা শহরের মানুষের অজানা নয়।”

নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শাহেদ বলেন, “গত ১৭টি বছর আমি শাহেদ রাজপথে আন্দোলনের মাঠে ছিলাম। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নারায়ণগঞ্জে আমি সবচেয়ে বড় সাফারার। খোদ অয়ন ওসমান নিজে আমার বাড়িতে এসে গুলি করেছিল! আর আজ আমার ওপর ওসমান পরিবারের ট্যাগ লাগানো হচ্ছে?”

বিপরীতে টিপুর অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে শাহেদ আহমেদ বড় বোমা ফাটিয়ে বলেন, “এই আবু আল ইউসুফ খান টিপু তো একসময় ‘বিএনএফ’ করতেন! প্রকৃতপক্ষে, ওসমান পরিবারের হয়ে দালালি করা, সাজনুর নামে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হওয়া বা না হওয়া—এসবই ওনার আসল কাজ। ওসমান পরিবার আর অয়ন ওসমানের সাথে কার আসল সখ্যতা ও নিয়মিত ওঠাবসা আছে, সাংবাদিক ভাইদের সেই খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানাই। কালা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ও নেই। আছে কিনা আপনারা তদন্ত করে দেখেন।”

টিপুর স্বভাবগত আচরণের তীব্র সমালোচনা করে যুবদল নেতা শাহেদ আরও অভিযোগ করেন, “এই মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকটা শুধু আমাদের নিয়েই নয়, নারায়ণগঞ্জের ক্লিন ইমেজ খ্যাত প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট কালাম সাহেবকে নিয়েও অনেক বিরূপ ও বাজে মন্তব্য করেছে এক সময়। তার পুত্র আবুল কাউসার আশা ভাই, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সাহেবসহ নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের নিয়েও সে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে।”

মৌমিতা পরিবহনের চাঁদাবাজির ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই কোন্দল এখন মহানগর বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ দুই নেতার মুখোমুখি প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যা নারায়ণগঞ্জের পুরো রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।