
দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই, নেই কোনো স্থায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য; অথচ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পদের আকাঙ্ক্ষায় মাঠে নেমেছেন নোবেল মীর নামে সোনারগাঁ থানা বিএনপির এক নেতা। যার নিজেরই চলার কোনো নির্দিষ্ট আয়ের মাধ্যম নেই, তিনি কিভাবে গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন বা এলাকার উন্নয়ন করবেন—তা নিয়ে শম্ভুপুরাসহ পুরো সোনারগাঁজুড়ে ব্যাপক হাস্যরস ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নোবেল মীর মূলত মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরায় নিজের মামাদের বাড়িতে থেকে তিনি বড় হয়েছেন। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস না থাকায় মাদকসেবীদের শেল্টার দেওয়া ও বিভিন্ন অনৈতিক কায়দায় অর্থ উপার্জন করাই তাঁর মূল কাজ। এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এমন একজন কর্মহীন ও বিতর্কিত ব্যক্তির বড় পদের স্বপ্ন দেখার অর্থই হলো পরবর্তীতে জনগণের টাকা লুটেপুটে খাওয়ার ‘ধান্ধার রাস্তা’ খোঁজা। ‘মামার বাড়িতে বড় হওয়া’ মুন্সিগঞ্জের ছেলেটির এই রাজনৈতিক খায়েশ নিয়ে চায়ের দোকানে দোকানে এখন তুমুল ট্রল ও হাস্যরস চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের তোলা ‘বহিরাগত’ বা মুন্সিগঞ্জের ছেলে হওয়ার এই অভিযোগের জবাবে মোহাম্মদ নোবেল মীর নিজের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “আমার দাদার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে হলেও আমি সোনারগাঁয়ের ভোটার। আমার বাবা-দাদার বাড়ি কোথায় সেটা বড় বিষয় নয়, প্রার্থী হওয়ার জন্য সেই এলাকার ভোটার হওয়াটাই আসল বিষয়।”
তবে ভোটার হওয়ার যুক্তি দিলেও বর্তমান আয়ের উৎস সম্পর্কে নোবেল মীরের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। একেকবার একেক ধরনের স্ববিরোধী ও অসংলগ্ন কথা বলে নিজের আয়ের উৎস লুকানোর চেষ্টা করেন তিনি।
নোবেল মীর প্রথমে দাবি করেন, “কমলাঘাটে আগে আমার ব্যবসা ছিলো, এখন নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা আছে।” কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ঠিক কোথায় তাঁর ব্যবসা, তা তিনি বলতে পারেননি।
একটু পরেই সুর বদলে বলেন, “সৌদি আরবে আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলাম, আমার বাবার ব্যবসা ছিলো।” বর্তমানের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, “কয়েকটি ব্যবসায় পার্টনার আছি।”
বারবার কথা ঘুরানোর কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে তিনি নিজেই অকপটে স্বীকার করে বলেন, “কই ভাই একেকবার একেক উত্তর দেই নাই তো। আমি তো ভাই ওতো প্যাচ বুঝি না। যদি এখন রানিং আয়ের উৎস সম্পর্কে বলেন, তাহলে আমার কোনো আয়ের উৎস নাই।”
যার নিজেরই কোনো রানিং আয়ের মাধ্যম বা উৎস নেই, সে কিভাবে আগামীতে এলাকার উন্নয়ন করবে—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে। এই প্রশ্নের জবাবে নোবেল মীর বলেন, “ভাই আমি কি ফকির নাকি, আমার জমিজমা আছে।”
অন্যদিকে, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে সেই কালো টাকায় চলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি জীবনেও মাদকের সাথে জড়িত ছিলাম না। আমি এগুলো পছন্দও করি না। সুতরাং মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।”
নিজের মুখে ‘রানিং আয়ের কোনো উৎস নেই’ বলে স্বীকার করা নোবেল মীরের এই রাজনৈতিক তৎপরতা শম্ভুপুরা ইউনিয়নের সচেতন ভোটারদের মাঝে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।







