অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ১০-১২ মাসে শেষ হবে স্থানীয় সরকারের সব ভোট

আগস্টের দ্বিতীয়ার্থেই তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা; ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ভোট শুরুর লক্ষ্য

10
অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ১০-১২ মাসে সব ভোট
অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ১০-১২ মাসে সব ভোট

আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ইউপি নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক পথরেখা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে ইসি। ইউপি, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের জন্য পৃথক এই রোডম্যাপ চলতি মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি জানান, নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও গতকাল সচিবালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য তাঁদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, সেই তথ্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এমনকি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ইসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরেই এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় একবারে সব নির্বাচন না করে ধাপে ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং আচরণবিধি চূড়ান্ত করার ওপরই নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ২১ জুন বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম ধাপের ভোট হয়েছিল, যেগুলোর মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ এখন নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আচরণবিধির খসড়া ইতিমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের কাজটি দ্রুত করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে ইসি প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে।

তবে ইসি মনে করছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অতীতে এই নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার নজির থাকায় এবার ধাপে ধাপে ভোট আয়োজন করা হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।