প্রস্তাবিত করের বোঝা বাতিলের দাবি এম সোলাইমানের

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ ১৫০ স্পিনিং মিল, হুমকিতে ৮-১০ হাজার সুতা ব্যবসায়ী ও লাখো তাঁতী

75
১৫০ স্পিনিং মিল বন্ধ, ১% টার্নওভার ট্যাক্স বাতিলের দাবি
১৫০ স্পিনিং মিল বন্ধ, ১% টার্নওভার ট্যাক্স বাতিলের দাবি

দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট (বিদ্যুৎ ও গ্যাস) এবং স্থানীয় বাজারে মন্দার পাশাপাশি নতুন করের বোঝা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব এম সোলাইমান। তিনি জানিয়েছেন, এই সংকট দ্রুত নিরসন না হলে দেশের টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। সোলাইমান জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

এম সোলাইমান খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে মিলগুলো চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একসময় দেশের তৈরি পোশাক খাতের (গার্মেন্টস) প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৮০ শতাংশই আমরা সরবরাহ করতাম। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মন্দা চলায় গার্মেন্টসে অর্ডার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে আমাদের ব্যবসার অবস্থাও চরম সংকটাপন্ন।”

তিনি আরও জানান, লোকাল মার্কেট তথা মাধবদী, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বেশিরভাগ তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন পুরোপুরি থমকে যাওয়ায় কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ তাঁতী ও শ্রমিক। এই সংকট দ্রুত নিরসন না হলে দেশের প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার সুতা ব্যবসায়ীর ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে, যার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়বে।

বিশেষ করে, সরকারের প্রস্তাবিত ১ শতাংশ (১%) টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে এম সোলাইমান তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমানে এই করের হার ০.২৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত ১ শতাংশ অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি টাকার লেনদেন হলেই কাটা হবে ১ লাখ টাকা ট্যাক্স—যা যতবার ব্যাংকে লেনদেন হবে, ততবারই দিতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, ১ কোটি টাকার লেনদেনে এই ট্যাক্স সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা হতে পারত।

সোলাইমান বলেন, প্রস্তাবিত ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীরা বর্তমানের ০.২৫ শতাংশ কর হারই বহাল রাখতে অথবা তা কমিয়ে ০.১৫ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছেন। এই কর আরোপ করা হলে এই খাতে বিপর্যয় নিশ্চিত হবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক না করা এবং করের হার যৌক্তিক না করা হলে নিটিং মিলসসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়বে।