ভর্তি ফি-র নামে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটছে ‘ল’ কলেজ!

প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নালিশ

10

নারায়ণগঞ্জ ‘ল’ কলেজে এলএলবি (শেষ পর্ব) ভর্তি নিয়ে এক চরম অরাজকতার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি-র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এই ‘অযৌক্তিক ও অনৈতিক’ ফি আদায়ের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এলএলবি শেষ বর্ষের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বোর্ড ফি বাবদ মাত্র ৩ হাজার ১২০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর সাথে ৬ মাসের বেতন ৪৮০০ টাকা (আগে যা ছিল ৪০০ টাকা করে) যোগ করলেও মোট খরচ হওয়ার কথা ৭ হাজার ৯২০ টাকা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ল কলেজ কর্তৃপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ১৩ হাজার টাকার বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। ‘উন্নয়ন ফি’, ‘রক্ষণাবেক্ষণ’ ও ‘বিবিধ’ খাতের নামে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৫ হাজার ৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে ইচ্ছুক। জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত নিলেও এক সেশনেই শিক্ষার্থীদের পকেট থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রতি বছর এভাবে দুইবার করে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কেন এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তীর সরাসরি কলেজের প্রিন্সিপালের দিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রিন্সিপাল প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি তিনি শিক্ষার্থীদের তার ব্যক্তিগত কোচিংয়ে পড়ার জন্য প্রলুব্ধ ও চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ আছে, যারা তার কোচিংয়ে ভর্তি হয়, তাদের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এতে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

অযৌক্তিক এই ফি-র কারণে অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর ওকালতি পড়ার স্বপ্ন এখন হুমকির মুখে। উপায় না দেখে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই অনৈতিক ফি স্থগিত করতে হবে এবং কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, একটি প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে ‘শিক্ষা বাণিজ্যের’ মহোৎসব চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আইনি শিক্ষা গ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসন এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।