
এক সময়ের ব্যস্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর নারায়ণগঞ্জ এখন পরিচ্ছন্নতার চরম অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে নগরবাসী এখন গুরুতর পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সবুজ পাটোয়ারীর অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা এবং মাঠপর্যায়ে যথাযথ নজরদারির অভাবে পুরো শহর কার্যত একটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ভোরে প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঝাড়ু দিয়ে বর্জ্যমুক্ত করার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সকাল গড়াতেই শহরের বাতাস ধুলাবালিতে ভারী হয়ে ওঠে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সময়মতো কাজে না আসা, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ না করায় সবখানেই অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠছে। অনেক এলাকায় দিনের পর দিন ময়লা পড়ে থাকলেও তা সরানোর কোনো উদ্যোগ নেই।
বিশেষ করে পাইকপাড়া কবরস্থান এলাকা থেকে শুরু করে চাষাঢ়া মোড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিদিনই আবর্জনার স্তুপ জমে থাকতে দেখা যায়। এসব পচা বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। চাষাঢ়া এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে চান না, ফলে ব্যবসায় ধস নামছে।
চাষাঢ়া এলাকার এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, সরাসরি দায়িত্বহীনতা। আমরা নিয়মিত ট্যাক্স দিই, কিন্তু বিনিময়ে পাচ্ছি ধুলা আর ময়লা।” পাইকপাড়া এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “কবরস্থানের মতো পবিত্র জায়গার পাশে এভাবে ময়লা জমে থাকা কেবল লজ্জার নয়, অমানবিকও। মৃতদের প্রতিও সিটি করপোরেশনের কোনো সম্মান নেই।”
নগরবাসীর দাবি, বর্তমান কর্মকর্তার আগে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা আলমগীর হিরনের সময়ে শহরের পরিস্থিতি অনেক ভালো ছিল। মাঠপর্যায়ে তার নিয়মিত উপস্থিতি ও তদারকির কারণে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত হতো। অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দ্রুত অবনতি শুরু হয়েছে।
পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় শহরে মশা ও মাছির উপদ্রব কয়েকগুণ বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অথচ এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই পরিস্থিতিকে সরাসরি জনস্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। তারা অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এখনই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নারায়ণগঞ্জ শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।







