সাখাওয়াতের সামনে মেয়রের চেয়ার, প্রশাসক পদ টেস্ট পরীক্ষা

9
সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিক প্রশাসক নিয়োগ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিক প্রশাসক নিয়োগ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এটি কেবল একটি নিয়োগ নয়; বরং সাখাওয়াতের জন্য এটি একটি বড় ‘টেস্ট কেস’ বা কঠিন পরীক্ষা। প্রশাসক হিসেবে তিনি যদি নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে আগামী সিটি নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে তিনিই থাকবেন সবার শীর্ষে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে মূলত পরখ করে নিতে চাইছে। প্রশাসক হিসেবে তিনি যদি সিটির উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন এবং দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে পারেন, তবে আগামীতে যখনই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, বিএনপির দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সাখাওয়াত হোসেন খানই হবেন প্রথম পছন্দ। আর এই লক্ষ্যেই তাকে প্রশাসক করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাখাওয়াত হোসেন খান কেবল একজন প্রথিতযশা আইনজীবীই নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং রাজপথের এক অকুতোভয় নেতা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে যখন বিএনপির রাজনীতি ছিল চরম প্রতিকূলতায়, তখন তিনি নারায়ণগঞ্জে দলের হাল ধরেন। জেল-জুলুম আর অসংখ্য মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিটি আন্দোলনে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। নেতা-কর্মীদের নামে হওয়া অসংখ্য মামলা আইনিভাবে মোকাবেলা করা থেকে শুরু করে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল-সমাবেশ সফল করতে তিনি ছিলেন আপসহীন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজপথের এই দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের সুফল হিসেবেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার তাকে আজ এই সম্মানজনক পদে আসীন করেছে। এটি মূলত তার ত্যাগের এক বড় স্বীকৃতি।

সাখাওয়াতের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এক বড় মাইলফলক ছিল ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচন। তখন আওয়ামী লীগ সরকারের চরম দাপট। ২০১১ সালে প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে বড় ব্যবধানে হারানো সেলিনা হায়াৎ আইভীর জনপ্রিয়তার বিপরীতে কেউ যখন প্রার্থী হতে সাহস পাচ্ছিল না, তখন বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়। প্রতিকূল পরিবেশে দাঁড়িয়েও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সাখাওয়াত প্রায় এক লাখ ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। তখনই প্রমাণিত হয়েছিল যে, নারায়ণগঞ্জের মানুষের মনে সাখাওয়াতের প্রতি এক গভীর আস্থা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। নতুন সরকারের অধীনে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনে সাখাওয়াত হোসেন খানকে নাসিকের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই গুঞ্জন-‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সাখাওয়াতই হবেন নগরপিতা’-তা যেন এই নিয়োগের মাধ্যমে অনেকটা নিশ্চিত হতে চললো।

সব মিলিয়ে, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের এই নিয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক পদ নয়; এটি তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। নারায়ণগঞ্জের নগরবাসী এবং বিএনপির হাইকমান্ড এখন সাখাওয়াতের কাজের দিকে তাকিয়ে। তিনি কি পারবেন তার প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে আগামীর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে নিজের পথ সুগম করতে? তার উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

আরও পড়ুন: মহানগর বিএনপিতে অস্থিরতা, টিপুর স্ট্যাটাসে তোলপাড়