
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নতুন প্রশাসক হিসেবে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নিয়োগের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে আলোচনার নতুন হাওয়া। একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের ত্যাগের মূল্যায়নের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছুটা অস্বস্তির ছাপও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলো সেই আলোচনার পালে হাওয়া দিচ্ছে।
গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অ্যাডভোকেট টিপু ত্যাগীদের অবহেলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষোভের বিষয়টি। ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লেখেন, “সারা দেশে সংস্কারবাদীরা পুরস্কৃত হচ্ছেন, কিন্তু যারা পরিশ্রমী ও ত্যাগী তারা এক ধরণের উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন।”
এর আগে, গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন টিপু। তিনি লিখেছেন, “মাঠের তৃণমূলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ও জনগণের ভাব না বুঝে যদি রাজনীতি করা হয়, তবে রাজনীতি ও রাষ্ট্র থমকে পড়বে।” এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, একসময় যারা তৃণমূলের খোঁজ নিতেন, তারা এখন অনেকটা দূরে সরে গেছেন, যা দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তার এই আক্ষেপপূর্ণ মন্তব্যগুলো সরাসরি কাউকে উদ্দেশ্য না করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেখছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, টিপুর এই সব বার্তার নেপথ্যে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন এবং সবশেষে সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া-এই বিষয়গুলো হয়তো টিপুর মতো নেতাদের মধ্যে এক ধরণের মানসিক দূরত্ব তৈরি করেছে।
টিপু বরাবরই নিজেকে দীর্ঘ ৪৬ বছরের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দাবি করে আসছেন। হামলা-মামলা আর জেল-জুলুমের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় তার মধ্যে এক ধরণের ‘বঞ্চনার বোধ’ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অন্য একটি পক্ষ মনে করেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে হকার ইস্যুসহ স্থানীয় কিছু কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা হয়তো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে টিপুর যোগাযোগে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একটি দূরত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, দল শেষ পর্যন্ত সব লড়াকু নেতার অবদানই মূল্যায়ন করে।
সাখাওয়াত হোসেন খানের সামনে যখন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রমাণের ‘টেস্ট কেস’, তখন টিপুর এই ফেসবুক বার্তাগুলো দলের ভেতরের শৃঙ্খলা ও ঐক্যের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক এই জটিল সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।
আরও পড়ুন: [সাখাওয়াতের পর এবার কি মামুন মাহমুদের পালা?]







