
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নিয়োগের পর এখন জেলাজুড়ে নতুন এক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের পর এবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকেও বড় কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। শোনা যাচ্ছে, তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চরম প্রতিকূল পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিকে যারা টিকিয়ে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। জেল-জুলুম, মামলা-হামলা উপেক্ষা করে তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই দুই নেতার যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও, সাখাওয়াত হোসেন খানের নিয়োগের মাধ্যমে সেই বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই নেতাকর্মীদের মুখে মুখে একটিই প্রশ্ন—অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কবে মূল্যায়িত হবেন? বর্তমানে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, জেলা পরিষদের পরিচালনার ভার তার হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার নিয়ন্ত্রণে আসবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে মামুন মাহমুদ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের কঠিন সময়ে জেলা বিএনপির হাল ধরে রাখা এই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা। নেতাকর্মীদের মতে, সাখাওয়াত ও মামুন মাহমুদের মতো ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করলে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাখাওয়াত হোসেন খানের নিয়োগ যেমন একটি ‘টেস্ট কেস’, মামুন মাহমুদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই হতে পারে। যদি তাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়, তবে তিনিও নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাবেন। মূলত স্থানীয় নির্বাচনের আগে দল তাদের এই প্রশাসনিক দক্ষতা পরখ করে নিতে চাইছে।
সাখাওয়াত হোসেন খান প্রশাসক হিসেবে আজ দায়িত্ব গ্রহন করে কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। এখন সবার নজর অধ্যাপক মামুন মাহমুদের দিকে। সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন কি খুব শীঘ্রই মামুন মাহমুদের নাম নিয়ে আসবে? নারায়ণগঞ্জের রাজপথের এই দুই লড়াকু সৈনিকের হাত ধরেই কি আগামীর নারায়ণগঞ্জ পরিচালিত হবে? উত্তর পাওয়ার জন্য এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।







