নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে অনিয়মের অভিযোগ

অতীতের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে

3
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
বিগত সরকারের আমলে জেলা পরিষদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বিগত কয়েক বছরের আর্থিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মহলে আলোচিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, পূর্ববর্তী সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ নেতা আবদুল হাই, আনোয়ার হোসেন এবং চন্দনশীল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ ও নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের পর্যায়ে যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত প্রায় দেড় বছর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের ওপর ন্যস্ত ছিল। সে সময়েও অতীতের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, নতুন প্রশাসনের সময় অতীতের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন বাজেট ব্যয় হয়। কিন্তু এসব প্রকল্পের কাজ কতটা সঠিকভাবে হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা—সেটা জানার কোনো সুযোগ সাধারণ মানুষের নেই। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।

ফতুল্লা এলাকার একজন সমাজকর্মী জানান, অনেক সময় দেখা যায় রাস্তা, ড্রেন বা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে তার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি মনে করেন, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিগত সময়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা হলে জেলার মানুষের কাছে পরিষদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তাদের মতে, অতীতে যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে তা উদঘাটন হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি ভবিষ্যতে যেন এমন অভিযোগ না ওঠে সেজন্যও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের আর্থিক কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে একদিকে যেমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও পুনরুদ্ধার হতে পারে।