
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে নিয়ে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ও ‘ট্যাগিং’ রাজনীতির জবাব মিলেছে খোদ সরকারপ্রধানের টেবিলে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সচল রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে সফল বৈঠক করেছেন মোহাম্মদ হাতেম। এই বৈঠকের পর যারা তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছিল, তারা এখন পুরোপুরি ব্যাকফুটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে মোহাম্মদ হাতেমকে ‘জামায়াতপন্থী’ বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিল একটি জাতীয় গণমাধ্যম। সেই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। একপর্যায়ে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে গণমাধ্যমটি হাতেমের সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ চক্র মোহাম্মদ হাতেমের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। চক্রটি বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার ঝুট ব্যবসা দাবি করেন। কিন্তু বিকেএমইএ সভাপতি সেই অনৈতিক ও অবৈধ দাবি প্রত্যাখ্যান করায় চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই তারা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টা শুরু করে।
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের হতাহতদের ফান্ডের জন্য একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিকেএমইএ-র কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান নেওয়া হয়। মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি এই মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করলেও, সেই দলেরই স্থানীয় এক সংসদ সদস্য পরবর্তীতে তাকে লক্ষ্য করে তীর্যক মন্তব্য করেন। অনুদান গ্রহণ করেও ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ না হওয়ায় এভাবে আক্রমণ করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে মূলত ‘ঝুট না পাওয়ার বেদনা’ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাই মুখ্য।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এলডিসি গ্রাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। একইসাথে বর্তমানে চালু থাকা কারখানাগুলো যাতে পরিস্থিতির চাপে বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে নীতিগত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর-এর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং সমস্যাগুলো লিখিত আকারে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়া। বিকেএমইএ-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার, সহ-সভাপতি মোরশেদ সারওয়ার সোহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জের শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করছেন, মোহাম্মদ হাতেমকে নিয়ে নোংরা রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সরকার তার অভিজ্ঞতার প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। ষড়যন্ত্রকারীদের সব বাধা ডিঙিয়ে পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি রক্ষাই এখন মূল লক্ষ্য। আর সাধারণ মানুষ এখন সমালোচকদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ছেন— “এবার কি বলবেন?”







