
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ নগরজুড়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আলোচনায় উঠে এসেছে সাখাওয়াত হোসেন খান এর নাম। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা, ফুটপাত দখল, খাল দখল ও নাগরিক দুর্ভোগে অতিষ্ঠ নগরবাসীর মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এই প্রশাসক।
গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাঠকেন্দ্রিক প্রশাসনের মাধ্যমে নগরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে শুরু করেন।
নগরবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে বিভিন্ন সমস্যা বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও বর্তমান প্রশাসকের সময়ে অন্তত সমস্যাগুলো নিয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা, খাল উদ্ধার, ড্রেন পরিষ্কার, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং নাগরিক সেবার গতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নগরীর খাল ও ড্রেন সংস্কার কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ময়লায় ভরাট হয়ে থাকা বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার এবং পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করে সিটি করপোরেশন। গত মার্চ মাসে ঐতিহ্যবাহী গঞ্জে আলী খাল খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। এই কার্যক্রমকে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগে যেখানে দিনের পর দিন ময়লার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যেত, এখন সেখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা, ফুটপাত এবং জনবহুল সড়কগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রশাসক। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখল উচ্ছেদের ফলে পথচারীদের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নগরবাসী ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যদিও কিছু এলাকায় পুনরায় দখলের চেষ্টা চলছে, তবুও প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারির কারণে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও কালভার্ট পরিষ্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের সময় আগের মতো দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা না হওয়াকে প্রশাসনের চলমান কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলেও মনে করছেন অনেকে।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিকল সড়কবাতি মেরামত, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নগর ভবনে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রশাসক।
সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রমও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে পরিচ্ছন্নতা, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান নিয়মিত বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করছেন এবং সরাসরি স্থানীয় জনগণের অভিযোগ শুনছেন। নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর তারা একজন প্রশাসককে মাঠে নেমে বাস্তব সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে দেখছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক নগরীতে স্বল্প সময়ের মধ্যে শতভাগ পরিবর্তন আনা সম্ভব না হলেও দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক সক্রিয়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই জায়গায় বর্তমান প্রশাসক ইতোমধ্যেই ইতিবাচক বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন, যদি বর্তমান গতিতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকে তবে নারায়ণগঞ্জ নগরী ধীরে ধীরে আরো পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত হবে।







