উত্তরাধিকারের বাইরে নিজস্ব পরিচয় গড়ার লড়াইয়ে আশা

40
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতে সম্ভাবনাময় নাম আবুল কাউসার আশা। হকারমুক্ত শহর ও জনসেবায় সক্রিয় হয়ে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজস্ব ইমেজ গড়ছেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতে সম্ভাবনাময় নাম আবুল কাউসার আশা।

রফিকুল ইসলাম জীবন:

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছেন আবুল কাউসার আশা। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হওয়ায় শুরুতে তাকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও শঙ্কা থাকলেও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সেই ধারণা অনেকটাই বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আবুল কাউসার আশা হলেন চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালামের পুত্র এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও প্রয়াত এমপি আলহাজ্ব জালাল হাজীর নাতি। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পিতা এডভোকেট আবুল কালামের মনোনয়ন নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদারে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন আশা। রাজনৈতিকভাবে কঠিন এক সমীকরণের মধ্যেও তার সক্রিয় ভূমিকা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত এডভোকেট আবুল কালাম চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, তিনি মোট ছয়বার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন; এর মধ্যে চারবার বিজয়ী ও দুইবার পরাজিত হন।

তবে রাজনৈতিক পরিবারের নতুন প্রজন্ম হিসেবে আবুল কাউসার আশাকে ঘিরে শুরুতে জনমনে কিছু শঙ্কা ছিল। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়তো ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে তথাকথিত ‘যুবরাজ রাজনীতি’র পথে হাঁটবেন। কেউ কেউ তাকে অতীতের বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্রগুলোর সঙ্গে তুলনা করেও দেখছিলেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। পিতা পুনরায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আশা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহরকে দখলমুক্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

ইতোমধ্যে শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শহরের অভ্যন্তরে আর অবৈধভাবে হকার বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অনেকেই এখন আশাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, শুরুতে মনে হয়েছিল উনিও হয়তো অন্যদের মতো হবেন। কিন্তু এখন যে কাজগুলো করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি সত্যিই শহরের জন্য কিছু করতে চান।

আরেক বাসিন্দা রুবিনা আক্তার বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আশা যদি এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেন, তাহলে মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবুল কাউসার আশার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে ইতিবাচক, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির মধ্যে ধরে রাখা। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে জনসেবামূলক কর্মকাে মাধ্যমে নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারলেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও শক্ত ভিত পাবে।

স্থানীয়দের একটি বড় অংশ মনে করছেন, যদি তিনি একই ধারায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে ভবিষ্যতে পিতা ও দাদার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

সব মিলিয়ে, নানা শঙ্কা ও বিতর্কের আবহ পেরিয়ে আবুল কাউসার আশা এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সম্ভাবনাময় এক নাম। সেই সম্ভাবনাকে তিনি কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।