বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

47
বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে (নাসিক) পানির সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন ও ফি নির্ধারণ নিয়ে চলমান সমালোচনাকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন বর্তমান প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি অভিযোগ করেন, বাসদ নেতা মাহবুবুর রহমান ইসমাইল এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সমাজে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।

সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “পানি নিয়ে তারা যে প্রচারণা চালাচ্ছেন সেটা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মহল বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে। বাস্তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সাবমারসিবল পাম্পের জন্য যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত সামান্য। এটা কোনোভাবেই জনগণের উপর নতুন কোনো করের বোঝা নয়।”

তিনি জানান, সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের জন্য নির্ধারিত ফি মাত্র ৫ হাজার টাকা। এছাড়া এর বার্ষিক নবায়ন ফি রাখা হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। তাঁর ভাষ্য মতে, কেউ এই ফি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে না পারলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো জেল-জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। মূলত নগর এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপ ও সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের একটি সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং পানি ব্যবস্থাপনাকে সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক আরও বলেন, “এডভোকেট ইসমাইল এবং এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম মাঠ পর্যায়ে এমনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন যেন সাধারণ জনগণের উপর বিশাল অঙ্কের করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, রাজধানী ঢাকায় একই ধরনের সংযোগ ও অনুমোদনের জন্য নাগরিকদের লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করতে হয়। সেই তুলনায় নারায়ণগঞ্জে এই ফি প্রায় নামমাত্র।”

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় তীব্র পানি সংকটও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই নগর এলাকায় গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণ এবং একটি নিবন্ধন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন একটি নীতিমালার আওতায় সাবমারসিবল পাম্পগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কোনো শহরে কতগুলো সাবমারসিবল পাম্প আছে, সেগুলো কোথায় বসানো হয়েছে এবং কত গভীর থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে-এই তথ্য সংরক্ষণ করা আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলনের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

এদিকে, ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের ফি ও চার্জ বহন করতে হয়। এছাড়া ঢাকা ওয়াসা নিয়মিত পানির ট্যারিফও বৃদ্ধি করে আসছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসা আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় গ্রাহকের পানির মূল্য একাধিকবার বৃদ্ধি করলেও নাসিক এখনো জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাই যেন প্রকৃত সত্য তথ্য জানার চেষ্টা করেন। একটি নির্দিষ্ট মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে নগরীর উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসী সচেতন, তারা সত্য-মিথ্যা ঠিকই বুঝতে পারবেন।”