
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তারসহ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো এলাকায় এখনো চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো কঠোর অভিযান না থাকায় জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুদিন ধরেই গাবতলী ও ইসদাইর এলাকা কার্যত মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আর এই ব্যর্থতার সুযোগে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত সোমবার দুপুরে গাবতলীর আমেনা গার্মেন্টসের মোড়ে এক মাদকাসক্ত যুবকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় শিশুসহ ৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, দিনের আলোতে একজন মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বেড়ালেও তাকে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
এর আগের দিন গাবতলী খানকা শরীফের পেছনের সড়কে মাদকাসক্ত দুই গ্রুপের ভয়াবহ সংঘর্ষে সুফিয়ান ও নয়ন নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে প্রকাশ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চললেও দীর্ঘ সময় এলাকায় কোনো কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাপুইরাপট্টি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিলয়ের শেল্টারে সোয়াদ ও জহিরুলের নেতৃত্বে একটি ভয়ংকর গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। এছাড়া পেটকাটা রকি, উৎসব ওরফে উৎস, ইকবাল, মনির ও মুন্নার মতো একাধিক মাদক কারবারির নাম এলাকাজুড়ে প্রকাশ্যে আলোচিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানা পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এতে করে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মাঝে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেসব মাদক স্পট ও সন্ত্রাসী গ্রুপের অবস্থান সাধারণ মানুষ চেনে, সেগুলো কি পুলিশের অজানা? যদি অজানা না হয়, তাহলে কেন বছরের পর বছর এসব চক্র বহাল তবিয়তে অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে? এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যে ছোটখাটো লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে দু-একজন মাদকসেবীকে আটক করা হলেও মূল গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা এখন স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোরদের টার্গেট করছে। সহজ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাদক বিক্রি, তথ্য আদান-প্রদান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক বা প্রতিরোধমূলক কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এলাকাবাসী বলছেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মারামারি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ছিনতাই কিংবা মাদকসেবীদের উন্মত্ত আচরণ দেখতে দেখতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার এখন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, গাবতলী-ইসদাইরের পুরো মাদক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানা পুলিশকে সর্বাত্মক ও সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে যারা আড়াল থেকে এসব চক্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।







