
শিক্ষিত, মেধারী ও আদর্শ জাতি গঠনে মায়েদের অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে চার ‘রত্নগর্ভা মা’-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘হলি উইলস স্কুল’। গতকাল বৃহস্পতিবার নগর ভবনে এক জমকালো আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এই কৃতি মায়েদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিক ৮ নং ওয়ার্ডের প্রশাসক সহায়তা কমিটির সভাপতি সাগর প্রধান। উল্লেখ্য, হলি উইলস স্কুল দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর মা দিবসে এলাকার কৃতি মায়েদের খুঁজে বের করে এই ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা দিয়ে আসছে।
রত্নগর্ভা মা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান মায়েদের ত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, “আজকে যে ৪ জন রত্নগর্ভা মা সম্মাননা পেলেন, তাঁরা তাঁদের সন্তানদের যেভাবে তিলে তিলে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে এই ধরনের মায়েদেরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রতিটি নারীকে যদি আমরা তাঁদের মতো সচেতন ও সুশিক্ষিত করে তুলতে পারি, তবে প্রতিটি ঘরে এমন মেধাবী সন্তান তৈরি হবে, যারা আগামী দিনে দেশ ও জাতিকে বড় কিছু উপহার দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি সংসারে যদি একটি মাত্র সন্তানও খারাপ পথে যায়, তবে পুরো পরিবারটাই ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু এই মায়েরা সুশিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলেছেন, যারা আজ রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের জন্য একেকজন আশীর্বাদ। সন্তান গঠনে মায়ের অবদানই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি। আমি মনে করি, আপনাদের মতো মা প্রতিটি ঘরে ঘরে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে এই দেশ একটি সুন্দর ও মেধাসম্পন্ন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।”
এ বছর হলি উইলস স্কুলের পক্ষ থেকে সম্মাননাপ্রাপ্ত চার রত্নগর্ভা মা হলেন—জালকুড়ি গ্রামের মাহবুবুল হকের সহধর্মিনী আমেনা বেগম, আজিজুল হকের সহধর্মিনী মাহবুবা হক, আবুল কালামের সহধর্মিনী উম্মে রোকসানা এবং গোদনাইল গ্রামের হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলের সহধর্মিনী শাহনাজ বেগম।
রত্নগর্ভা আমেনা বেগম: তাঁর বড় ছেলে ইনজামামুল হক কাশফী একজন বিসিএস ক্যাডার, যিনি বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ডেপুটি কমিশনার (এমবিআর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় ছেলে মাশরুরুল হক উরফি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স করছেন।
রত্নগর্ভা মাহবুবা হক: তিনি তাঁর চার সন্তানকেই উচ্চশিক্ষায় আলোকিত করেছেন। বড় মেয়ে নাজিয়া ফাহমিন নিতু নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। বড় ছেলে মাহফুজুল হক জিতু একজন সফল ফার্মাসিস্ট। দ্বিতীয় মেয়ে আজমিনুর নাহার সেতু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে ডেন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত এবং ছোট ছেলে মিনহাজুল হক জিহান আইইউবি থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স করছেন।
রত্নগর্ভা উম্মে রোকসানা: তাঁর দুই ছেলেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে অবদান রাখছেন। বড় ছেলে জাহিদ হাসান শশী একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ার, যিনি বর্তমানে গুলশানের এশিয়ান টিভিতে কর্মরত। দ্বিতীয় ছেলে তরিকুল ইসলাম ওশী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যিনি বর্তমানে পল্টনের ‘বেঙ্গল মোবাইল কিউএ সলিউশন’ কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।
রত্নগর্ভা শাহনাজ বেগম: তাঁর বড় মেয়ে বর্তমানে হলি উইলস স্কুলেই শিক্ষকতা করছেন এবং সরকারি তোলারাম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ছোট মেয়েও একই তোলারাম কলেজ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে সফলতার সঙ্গে এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা হলি উইলস স্কুলের এই ১৫ বছরের ধারাবাহিক মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কৃতি মায়েদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেন।







