
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সেখানে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী’র সম্ভাব্য অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে নগর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেত্রীকে ঘিরে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যত সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক কিংবা সরাসরি রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এমন বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক মেয়র আইভীর নাম। টানা কয়েকবার নির্বাচিত হয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ নগর রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে সেটি রাজনৈতিকভাবে জটিল বার্তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সংকটের মধ্যে আইভী যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে দলের একটি অংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে সমঝোতা বা আতাত-এর অভিযোগ উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দলীয় তৃণমূলের একটি অংশ মনে করছে, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপে থাকাকালে আইভীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ দলীয় কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা দিতে পারে। এতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে আগ্রহী এমন সমালোচনার মুখেও পড়তে পারেন।
অন্যদিকে আইভীর ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি এখনো নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাকে আবারও মেয়র হিসেবে দেখতে চান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে অগ্রাধিকার দেবেন, নাকি দলীয় অবস্থানের প্রতি অনুগত থাকবেন-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভী নির্বাচনে না এলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের রাজনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে নতুন সমীকরণও তৈরি হতে পারে। কারণ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের নগর রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন আইভী।
এদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে মত দিতে শুরু করেছেন। তাদের বক্তব্য, দল নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় কোনো নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া উচিত হবে না। ফলে আগামী নির্বাচন ঘিরে আইভীর সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রার্থিতা নয়, বরং নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠতে পারে।







