দুই বোনকে কুপ্রস্তাব, অতঃপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মালিককে খুন!

142
কারখানার মেয়েদের ওপর নজর ছিল মালিকের, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুন
কারখানার মেয়েদের ওপর নজর ছিল মালিকের, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুন

কারখানার নারী শ্রমিকদের সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অন্য মেয়েদেরও কুপ্রস্তাব দেওয়ার চরম খেসারত দিতে হলো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এক হোসিয়ারী ব্যবসায়ীকে। মালিকের এমন অনৈতিক লালসার প্রতি ক্ষোভ থেকেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে খুন করেছে কারখানারই দুই শ্রমিক। চায়ের সাথে এক পাতা (১০টি) ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর হোসিয়ারী কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত কারখানার নারী শ্রমিক ও তার প্রেমিকের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশ ঘাতক দুই শ্রমিককে গ্রেফতারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও নিহত ব্যবসায়ীর ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার মোসাঃ মীম (২০) এবং নীলফামারী জেলার মোঃ রানা হোসেন (২৪)। ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, নিহত হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মোঃ হারুন খালাসী (৪৬) দীর্ঘদিন যাবৎ ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যবসা ভালো চললেও তার নজর ছিল কারখানার নারী শ্রমিকদের দিকে। তিনি ইতিপূর্বেও কারখানার অন্যান্য মেয়েদের সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। একপর্যায়ে হারুন খালাসীর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে কারখানার শ্রমিক মীম ও মীমের বোন জিমের ওপর। তিনি দুই বোনের সাথেই দৈহিক মেলামেশা করার জন্য অনবরত কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

কিন্তু আসামী রানা জিমকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং মীমও বিবাহিত ছিলেন। মালিকের এমন অনৈতিক ও নোংরা প্রস্তাব কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তারা। নিজের ভালোবাসার মানুষ ও বোনকে বাঁচাতে এবং মালিকের ওপর জমে থাকা চরম ক্ষোভ থেকে তারা হারুন খালাসীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নিখুঁত পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে বিকেলে কারখানায় শ্রমিকদের বেতনের টাকা রাখার পর সুযোগ বোঝেন মীম ও রানা। তারা কৌশলে মালিক হারুন খালাসীকে চায়ের সাথে এক পাতা (১০টি) কড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়েন ব্যবসায়ী। এরপর মীম ও রানা কারখানায় থাকা হোসিয়ারী কাপড় বাঁধার শক্ত গার্ডার দিয়ে হারুন খালাসীর গলায় পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে টেনে ধরেন এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

খুন করার পর যেন কেউ সহজে বুঝতে না পারে, সেজন্য হারুন খালাসীর মরদেহ কারখানার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে বাইরে থেকে দরজায় তালা মেরে চম্পট দেয় এই যুগল। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল থেকে সন্দেহজনক মেসেজ পেয়ে কারখানায় গিয়ে তালা ভেঙে অচেতন দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ লামাপাড়া এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মীম ও রানাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুণ্ঠিত টাকার বড় অংশ এবং নিহতের ৩টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন উদ্ধার করা হয়। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদের এই অনৈতিক ক্ষোভ ও খুনের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতে রোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।